জুলাইয়ে প্রথম ৬ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬৪৩

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেবল জুলাই মাসেই ডেঙ্গু নিয়ে গড়ে প্রতিদিন একশোরও বেশি রোগী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেবেই চলতি মাসে এই সংখ্যা ৬৪৩ জন। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৬৮৮ জন। তবে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় পূর্বপ্রস্তুতি থাকায় মৃতের সংখ্যা সে অনুপাতে বাড়েনি বলে দাবি স্বাস্থ্য অধিদফতরের। তবে এডিস নিয়ন্ত্রণ বা সচতেনতা সৃষ্টিতে সিটি করপোরেশন ব্যর্থ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ডেঙ্গু রাজধানীজুড়ে এখন একটি আতঙ্কের নাম। কেবল সরকারি হিসেবেই চলতি বছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৬৮৮ জন। আর এ পর্যন্ত মারা গেছে তিনজন। চলতি মাসের প্রথম ছয় দিনেই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে এই সংখ্যা ৬৪৩ জন। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই পরিসংখ্যানের চেয়ে বাস্তব চিত্র আরো বেশি ভয়াবহ। এর ওপর প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ।

গতকাল রোববার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হলি ফ্যামিলিতে ১৬, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ১৫, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৪, ঢাকা মেডিকেলে ১১ ও মিডফোর্ডে ৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। যার বেশিরভাগই মারাত্মক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, যারা নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের কমপ্লিকেশন কম হচ্ছে, যাদের আগের ডেঙ্গুর ইতিহাস আছে তাদের প্রেসার কমে যাচ্ছে, ব্লাড কাউন্ট অনেক কমে যাচ্ছে।

যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ আর হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি থাকায় মৃতের সংখ্যা সে অনুপাতে বাড়েনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, প্রথমবার আক্রান্তের ক্ষেত্রে মৃত্যুর সম্ভাবনা নাই বললেই চলে, দ্বিতীয়-তৃতীয়বারে মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। ম্যানেজমেন্ট সুন্দরভাবে চলছে বলেই মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম।

এদিকে জুনে হঠাৎ করেই ডেঙ্গু বেড়ে যাওয়ার পর নানা পদক্ষেপ নিয়ে মাঠে নেমেছে দুই সিটি করপোরেশন। তবে তা কেবল লোকদেখানো পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ফুগার মেশিন নিয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম হয়, তার আমাদের কাছে কোনো মূল্য নেই। যেসব জায়গায় জমা জল রয়েছে, সেটা বাড়ি থেকে শুরু করে, সিটি করপোরেশনের নর্দমা থেকে শুরু করে, জলাধার পর্যন্ত সেগুলো চিহ্নিত করে অঞ্চলভিত্তিক জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে প্রতিরোধকমূলক কার্যক্রম করার ক্ষেত্রেও উৎসাহ তেমন নেই বললেই চলে।

 

"