৩ নম্বর সংকেত বহাল : পাহাড় ধসের আশঙ্কা

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম, মোংলা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমি ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। সেখানেও পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. আবদুল হান্নান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গতকাল রোববার বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝে মাঝে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের ফলে সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝড়ো হাওয়া। সাগর উত্তাল রয়েছে।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসরতদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে বসবাসের জন্য এরই মধ্যে আটটি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুর রহমান জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার ও পানি মজুদ রাখা হয়েছে। নগরীর ছয়টি সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার সমন্বয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু রয়েছে।

বান্দরবানের নিম্নাঞ্চলে পানি, পাহাড় ধসের আশঙ্কা

বান্দরবান প্রতিনিধি জানায়, গত দুই দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চলে বাড়তে শুরু করেছে পানি। সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ার কারণে জেলার লামা উপজেলার আরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান সদরের আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, শেরেবাংলা নগর, মধ্যমপাড়া, উজানীপাড়া, ক্যউচিংঘাটা, ভরাখালীসহ শহরের এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া কিছু দিন আগে লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায়। এতে শত শত ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লামা পৌরসভার নয়াপাড়া, উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকাগুলো, লামা বাজারের একাংশ, পৌর এলাকার হলিচাইল্ড পাবলিক স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি দফতর পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

"