নিত্যপণ্য : ব্যবসায়ীরা দাম নিচ্ছেন ইচ্ছামতো

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার। ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। পক্ষান্তরে, সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। কোথাও অনিয়ম চোখে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যে যা নিতে পারছে, নিচ্ছে। যে দিতে পারছে, দিচ্ছে। হরতাল নেই, অবরোধ নেই, বৃষ্টি নেই, বন্যা নেই। নেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক হাঙ্গামাও। তারপরও সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত।

তবে, ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্যের দাম বাড়ানোর অজুহাতেরও যেন শেষ নেই। তাদের কাছে কখনো দাম বাড়ে মোকামের কারণে, কখনো পাইকারি বাজারে দাম বাড়ানোর কারণে, আবার কখনো সরবরাহ কম থাকায়। আবার কখনো গাড়িভাড়া, যেমনÑ ট্রাক, ভ্যান, এমনকি রিকশা ভাড়াবৃদ্ধির কারণেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে বলে অজুহাত দাঁড় করান ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, কারণ ছাড়াই বেড়েছে সব ধরনের মাছ মাংস, সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও আটার দাম। ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরের বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা কেজি দরে। বাজেটে সুগারের ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির অজুহাতে বেড়েছে চিনির দাম। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা দরে। আর দেশি শিল্পকে প্রটেকশন দিতে শুল্ক বেড়েছে আমদানি করা গুঁড়ো দুধের। এই সুযোগে ৫৪০ টাকার গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা কেজি দরে। আর ৪৪৫ টাকার গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৪৯৫ টাকা কেজি দরে। ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ১৫ টাকা। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ডিম বিক্রেতারা বলছেন, খামারে গরমের কারণে ডিমের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া মাছ ও মাংসের দাম বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ পড়েছে। তাই দামও বেড়েছে। জানা গেছে, আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে কেজিতে ৭ টাকা। এর প্রভাবে আমদানি করা পেঁয়াজের সঙ্গে দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। ২৫ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি দরে। রসুনের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, তারপরও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরের রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম বাড়লে রসুনের দামও বাড়ে।

শ্যামবাজারের একজন আমদানিকারক জানান, চায়না রসুনের দাম বেড়েছে। তাই এর প্রভাব পড়েছে দেশি রসুনের ওপর। হিলি বন্দর দিয়ে আসছে ভারতীয় পেঁয়াজ। সেখানেই বাড়তি দাম দিয়ে আনতে হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর মৌলভীবাজার পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দামই বাড়েনি। সবকিছু ঠিক আছে, ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। ঝামেলা যা হওয়ার তা হচ্ছে খুচরা বাজারে। খুচরা বাজারের অস্থিরতার প্রভাব আমাদের ঘাড়ে এসেও মাঝেমধ্যে পড়ে। নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হই। খুচরা বাজারে মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা শুধু ফাঁকফোকর খুঁজে বেড়ান, কখন কোন সুযোগে অনৈতিক মুনাফা করবেন। এসব অসাধু ব্যবসায়ীর দায়িত্ব আমরা নেব না। তারা বিচ্ছিন্ন। তবে সরকারের মনিটরিং জোরালো করা দরকার।’

 

"