শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার তিন বছর

বীভৎস ঘটনা আজও তাড়িয়ে বেড়ায়

* ২৪ আসামির ১৯ জনই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত * চার্জশিট দাখিল সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

শোলাকিয়া হামলার ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের এই দিনে দেশের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে মাঠে প্রবেশপথের সবুজবাগ সংযোগ সড়কে মুফতি মোহাম্মদ আলী জামে মসজিদের সামনের তল্লাশি চৌকিতে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেড, গুলি ও চাপাতির আঘাতে দুজন পুলিশ কনস্টেবল, একজন গৃহবধূ ও এক জঙ্গি নিহত হন। এ ছাড়া জঙ্গি, পুলিশ ও মুসল্লিসহ অন্তত ১৬ ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। সেদিনের স্বজন হারানোর দুঃসহ স্মৃতি আর দেশ কাঁপানো বীভৎস ঘটনা আজও তাড়িয়ে বেড়ায় এ এলাকার মানুষকে। এ ধরনের নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জবাসী।

ওই সময় পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে গুরুতর আহত অবস্থায় শফিউল ইসলাম ডন নামে এক সশস্ত্র জঙ্গি এবং তানিম নামে স্থানীয় এক সন্দেহভাজন যুবক আটক হয়। আর এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলায় সর্বশেষ মোট ২৪ জঙ্গিকে আসামি করা হয়। এদের প্রায় সবাই হলি আর্টিসান রোস্তোরাঁয় হামলারও আসামি। এসব আসামির মধ্যে ১৯ জনই বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।

সরকার এ ঘটনায় নিহত দুই পুলিশ সদস্যের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা এবং নিহত গৃহবধূর সন্তানকে ব্যাংকে চাকরি দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।

ওই হামলায় নিহত ঝর্ণা রানী ভৌমিকের অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া শিশুপুত্র শুভ ভৌমিক ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানায়, জঙ্গি হামলার সময় তার মা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার দুঃস্বপ্ন আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সে প্রায়ই এ স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে চিৎকার দিয়ে জেগে ওঠে। তার দাবি, আর কোনো জঙ্গি হামলায় যেন কোনো শিশু তার মতো মাতৃহীন না হয়।

কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শাহ আজিজুল হক জানান, এরই মধ্যে এ চাঞ্চল্যকর মামলাটির চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালত সাক্ষীর জন্য প্রস্তুত। সাক্ষীর জন্য ২২ জুলাই তারিখ ধার্য আছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সফল তদন্ত শেষে মামলাটির চার্জশিট দিয়েছে। এ দেশ কাঁপানো জঙ্গি হামলা আমাদের জন্যও বিশেষ বার্তা ছিল। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কবস্থা গ্রহণ করে এদের নির্মূল করতে পেরেছি। এ মামলার সব আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রত্যাশা করি।

"