‘আমার গ্রাম আমার শহর’ সফল হলে দারিদ্র্য থাকবে না

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গতকাল বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি সফল হলে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না। এর আগে মন্ত্রী রংপুর নগরীতে কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক ও শপিং কমপ্লেক্স, তারাগঞ্জে নির্মাণাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ভবন, গঙ্গাচড়ায় নির্মাণাধীন গৃহায়ন প্রকল্প পল্লী জনপদও পরিদর্শন করেন। তিনি পীরগঞ্জ ফতেপুরের পরমাণু বিজ্ঞানী প্রধানমন্ত্রীর স্বামী মরহুম ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত করেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

বগুড়া : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ কর্মসূচি সফল হলে গ্রামে পৌঁছে যাবে শহরের সুবিধা। সবাই উন্নত জীবনযাপন করতে পারবে। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে, তার সমাধানে কাজ করছেন। গ্রামকে শহরে পরিণত করতে তিনি একটি দর্শন তুলে ধরেছেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে আরডিএ বগুড়ার আইটি সেন্টারে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমের পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে না পারলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। জমির আইল না রেখে সমবায়ী ভিত্তিতে চাষাবাদ করতে হবে। এরই মধ্যে বগুড়া ও কুমিল্লায় পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভাগ্যাহত কৃষককুলের উন্নয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি। দেশের সংকটকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি উন্নয়নে যে রূপরেখা প্রদান করেছিলেন, সেই রূপরেখা অনুযায়ী পরে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছিল।

‘আমার গ্রাম আমার শহর’Ñ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পৌঁছে যেতে পারে মধ্যম আয়ের দেশে। তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ জনগণকে কৃষিজমি-সংক্রান্ত গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমবায় সমিতি গড়ে তুলে গ্রামে বাজার সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আরডিএ, বগুড়ার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

পর্যালোচনা সভায় একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আমিনুল ইসলাম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১৭টি সেক্টরের উন্নয়ন বিষয়ে পর্যালোচনার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের হাওর এলাকার কৃষকদের জমি পানির নিচে থাকার পরও তারা সমবায় সমিতির মাধ্যমে একত্র হয়ে চাষাবাদ করে অনেক উন্নতি করেছে। একইভাবে কৃষিজমি একত্রীকরণ করে সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করতে পারবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হাবিবর রহমান এমপি, রেজাউল করিম বাবলু এমপি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মকবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু।

এর আগে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিরা আইটি সেন্টারের সামনে বৃক্ষরোপণ করেন। তারা সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে মন্ত্রী রংপুর নগরীতে কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক ও শপিং কমপ্লেক্স, তারাগঞ্জে নির্মাণাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ভবন, গঙ্গাচড়ায় নির্মাণাধীন গৃহায়ন প্রকল্প পল্লী জনপদও পরিদর্শন করেন।

রংপুর ব্যুরো : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, সরকার দেশের সব এলাকার সুষম উন্নয়ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর নগরীর কেন্দ্রস্থলে নির্মাণাধীন রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক শপিং কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, রংপুরে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার, সেসব সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে। পল্লী এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে সরকার। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য।

এর আগে এলজিআরডিমন্ত্রী রংপুরের তারাগঞ্জে ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ভবন পরিদর্শন করেন। তিনি রংপুর জেলা গঙ্গাচড়ায় নির্মাণাধীন গৃহায়ন প্রকল্প পল্লী জনপদও পরিদর্শন করেন। এ গৃহায়ন প্রকল্পে ২৭২টি ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, কৃষিজমি অপচয় রোধ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত উন্নত আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি দেশের ৭টি বিভাগের প্রতিটিতে একটি (রংপুর, গোপালগঞ্জ, বগুড়া, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল) বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের (গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট) গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণ এবং দারিদ্র্যবিমোচনে আরডিএ, বগুড়ার অধীনে রংপুরের তারাগঞ্জে তৈরি হচ্ছে পল্লী একাডেমি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সমবায় বিভাগের সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বাহার উদ্দিন মৃধা, রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান প্রমুখ।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত

পীরগঞ্জ (রংপুর) : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গতকাল শনিবার পীরগঞ্জ ফতেপুরের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী প্রধানমন্ত্রীর স্বামী মরহুম ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য তার সঙ্গে ছিলেন।

এ ছাড়া সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব নুরে আলম সিদ্দিক, চিফ ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান, জনস্বাস্থ্যের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান, পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজিমুল ইসলাম শামীম, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ নূর মোহাম্মদ ম-ল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিন, পীরগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

"