পাঁচ জেলায় সংঘর্ষ হামলা : আহত ৫৭

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনার পাইকগাছায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে, যশোরের কেশবপুরে এবং মাদারীপুরের কালকিনিতে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫৭ জন আহত হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোথাও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

ব্রাহ্মণাবড়িয়া : গতকাল বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের জেরে দুই দলের সংঘর্ষে পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সকালে সৈয়দটুলা গ্রামের নয়াপাড়া এলাকার দুই ছাত্রী সরাইল সদরে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফকিরপাড়ার আবদুল্লাহ, মুয়াজ্জিনসহ কয়েকজন বখাটে তাদের উত্ত্যক্ত করে। এ খবর পেয়ে নোয়াপাড়ার লোকজন ফকিরপাড়ায় জিজ্ঞেস করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও পরে মারামারি শুরু হয়। এরপর উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র¿ নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও ২০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে সরাইল থানার ওসি (তদন্ত) নূরুল হক, এসআই রফিক, কনস্টেবল নাজমুল, রুকন উদ্দিন, বেলালসহ ৩০ জন আহত হন। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পাইকগাছা (খুলনা) : খুলনার পাইকগাছায় জায়গা জমির বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাইকগাছা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের অসীম মন্ডল নিজ জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ মনোরঞ্জন মন্ডলের লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী মনোরঞ্জন মন্ডল, ছেলে অমল মন্ডল, প্রভাষ মন্ডল, অসীমের স্ত্রী মিতা মন্ডলকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বাড়ির লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। মনোরঞ্জন মন্ডল জানান, এখানে তাদের কোনো জমি নেই। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে কথা কাটাকাটি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরের অনুগত দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের আদমজী স’মিলপাড়া রেললাইন এলাকায় আক্তার হোসেন ও হান্নান গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় ও নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতির সমর্থক স’মিলপাড়া আইলপাড়া এলাকার পানি আক্তার গ্রুপের ইউনুছ মিয়ার ছেলে শাহ আলম বাদী হয়ে ১৬ জনকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করে। অপরদিকে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থক হান্নান গ্রুপের পক্ষে স’মিলপাড়া এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে জসিম বাদী হয়ে ২৫ জনকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। দুই গ্রুপের প্রধানসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা তিন অসহায় পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় দুই মহিলাসহ চারজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার কাস্তা গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে প্রতিবেশী সবুর শেখের ছেলে ইব্রাহিম হোসেনের বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এরই জেরে গত মঙ্গলবার সকালে ইব্রাহিম হোসেন, শরিফুল ইসলাম আক্তারুজ্জামান, সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জন যুবক লোহার রড, সাবল, দা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রে¿ সজ্জিত হয়ে আবু বকর সিদ্দিকের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মিজানুর রহমানের বসতঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও বিচলী গাদা ভেঙে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে গোয়াল ঘরের খাসি ছাগালটি পুড়ে মারা যায়। বাধা দিতে গেলে আবু বকর সিদ্দিক, মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী ফরিদা পারভিন ও ফতেমা বেগম আহত হন। হামলাকারীরা তিন পরিবারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তা বেড়া দিয়ে জমি দখল নিয়ে তারা চলে যায়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ইব্রাহিম হোসেন, শরিফুল ইসলাম, আক্তারুজ্জামান, সাইফুল ইসলামসহ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন।

এ ব্যাপারে ইব্রাহিম হোসেন বলেন, তারা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে তা সঠিক নয়। তবে তাদের উচ্ছেদ করে আমার জমি দখলে নিয়েছি।

কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক ফকির ফেরদৌস বলেন, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা মিলেছে। এ বাপারে ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে আক্তারুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে।

কালকিনি (মাদারীপুর) : একটি হত্যার ঘটনা নিয়ে মাদারীপুরের কালকিনিতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে করে উভয় পক্ষের নারীসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় হত্যা মামলা করেছে। পুলিশ মো. সোবাহান মুন্সী নামের একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার আলীনগর এলাকার কোলচুরি সস্থাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।

এলাকা ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বর্তমান ইউপি সদস্য নান্নু মোল্লা ও একই গ্রামের মাহাবুব ব্যাপারীর মধ্যে বিরোধ ছিল। এরই জেরে গত সোমবার সকালে জিয়াউল মোল্লা নামের এক যুবককে একা পেয়ে মাহাবুব ব্যাপারীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরই জেরে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে কালকিনি থানার ওসি মো. মোফাজ্জেল হোসেন পশ্চিম দরীরচর গ্রামের মিরাজুল হাওলাদের বাড়ি থেকে লুটকৃত ১২টি গরু ও ছয়টি ছাগল উদ্ধার করে।

 

"