পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

শ্রমিকের মৃত্যু, সংঘর্ষ চীনা নাগরিক নিহত

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন। ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাবিন্দ্র দাস (৩২) নামে একজন বাংলাদেশি শ্রমিক ওপর থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর এ নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রথমে তর্কবিতর্ক, পরে মারামারি লেগে যায়। এতে আটজন বাংলাদেশি শ্রমিক এবং ছয়জন চীনা শ্রমিক আহত হন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর রাতে আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। বরিশালে গতকাল বুধবার ভোরে একজন চীনা শ্রমিক মারা যান। তার নাম জাং ইয়াং ফিং (২৬)। আহত বাকি চীনা শ্রমিকদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিজিবি র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকাল থেকে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। ঘটনার রাতেই অনেক বাঙালি শ্রমিক হামলার আশঙ্কায় কর্মস্থল ছেড়ে চলে গেছে।

পায়রার ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ছয় হাজার শ্রমিক কাজ করেন, এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি চীনা শ্রমিক ও প্রকৌশলী রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি, তবে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর পুলিশ।

সংঘর্ষে দুজন চায়না শ্রমিক চাংচংটিং (২৩) ও লিংসুয়ে (৫০) এবং ২ বাঙালি শ্রমিক আলকাছ (৪৪) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৪৮) আহত হয়েছেন বলে বিসিপিসিএল কর্মকর্তারা জানালেও এ সংখ্যা অর্ধশতাধিক বলে জানিয়েছেন শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সংঘর্ষের ছবি তুলতে গিয়ে প্রতিদিনের সংবাদের কলাপাড়া প্রতিনিধি ফরাজী মো. ইমরানের মোটরসাইকেল ও মাইটিভির কলাপাড়া-কুয়াকাটা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রয়েলের ক্যামেরা ভাঙচুর চালায় চায়না শ্রমিকরা। এ সময় চায়না শ্রমিকের ধাওয়া খেয়ে আরো দুই সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলেট ও মিলন সরকার ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পুলিশের আশ্রয় নেন। কলাপাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

"