বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনা

জনকল্যাণমুখী : সরকারি দল করের বোঝা : বিএনপি

প্রকাশ | ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত বাজেট ‘উচ্চাভিলাষী নয়, বাস্তবসম্মত জনকল্যাণমুখী বাজেট’ উল্লেখ করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার পরিবর্তে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। নির্বাচনকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এই বিতর্কিত ও দন্ডিত নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপি চলবে না। অন্যদিকে বিএনপি অভিযোগ করেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে করের বোঝা চাপানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের অধ্যাপক আলী আশরাফ, আবদুল মান্নান, পংকজ দেবনাথ, মো. সাইফুজ্জামান (শিখর), খালেদা খানম, বেগম কানিজ ফাতেমা আহমেদ, আরমা দত্ত, সৈয়দা রুবিনা আক্তার, শেখ এ্যানী রহমান ও অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, ওয়ার্কার্স পার্টির বেগম লুৎফুন নেসা খান এবং বিএনপির মোশারফ হোসেন ভূইয়া।

অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ ও সাহসী নেতৃত্বে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা ১৭ কোটি পেরিয়ে গেছে, জমি অর্ধেক কমে গেছে তবুও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আবদুল মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ নেতৃত্বে ও ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। জীবদ্দশায় জিয়াউর রহমান নিজেকে কখনো স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন, যারা এ দাবি করেন তারা কেউ প্রমাণ দিতে পারলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করব। তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব দিয়ে দলটি চলবে না। নেতৃত্ব বদলান, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কাউকে নেতৃত্বে আনুন তবে যদি রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, একাত্তরে স্বামী (জিয়াউর রহমান) যুদ্ধে ছিলেন, আর স্ত্রী (খালেদা জিয়া) কোথায় ছিলেন? ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানিদের সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে বহাল তবিয়তে থাকলেন। যারা সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাদের বীরাঙ্গনা বলা হয়, সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে কি বলা হবে তা আগে ঠিক করেন।

ওই সব বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বিশাল বাজেট দেওয়া হলেও এত ঘাটতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন খুব কঠিন হবে। পুরো জনগণের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে নতুন করদাতা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সংসদে মাত্র আমরা ৬ জন, কিন্তু কথা বলতে গেলেই বাধা দেয়া হয়। জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমান এদেশের জন্য অনেক কাজ করে গেছেন। তিনি বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর এবং সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানান।

ওয়ার্কার্স পার্টির বেগম লুৎফুন নেসা খান বলেন, মানসম্মত শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ অনেক পেছনে। দেশে বেকারের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ সমাজ মাদকের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তিনি জাতীয় সংসদের ৩৩ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত করে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

সাইফুজ্জামান (শিখর) বলেন, বাংলাদেশ মানুষকে উন্নত জীবন দেওয়াই হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ধ্যান-জ্ঞান। বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, দেশের অর্থনীতি ও বাজেটের আকার।

ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, বিএনপির ৫/৬ জন সংসদ সদস্যদের অসংসদীয় ভাষা যেভাবে এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে, অতীতে কখনো হয়নি। বিএনপি এখন মুসলীম লীগ হওয়ার পথে। পংকজ দেবনাথ বলেন, জনগণ দুর্নীতির বরপুত্র কুলাঙ্গার তারেক রহমানদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী যুদ্ধে অংশ না নিয়ে ষড়যন্ত্র ও নির্বাচন বাণিজ্য করেছে।

 

"