শেষে গাণিতিক মেধার স্বীকৃতি দিল নাসা

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‘পাঁচের দশকের গোড়া। আমেরিকার মতো উন্নত দেশে বিভিন্ন জটিল গবেষণায় কম্পিউটার ব্যবহার শুরু হয়েছে কিন্তু সেই যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্যের বদলে মানুষের হাতের গণনাকেই অনেক বেশি ভরসা করা হতো তখন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাও তার ব্যতিক্রম ছিল না। মহাকাশ অভিযানের নানা জটিল গবেষণা ও গণনার কাজ তখন কাগজে-কলমেই করতেন নাসার বিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞরা। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ক্যাথরিন জনসন, ডরোথি ভন এবং মেরি জ্যাকসন। এদের গাণিতিক মেধা অসাধারণ। তারা জানতেন, একটা ভুল সংখ্যা মানে বিপুল বিপর্যয়। তাই কার্যত দিন-রাত এক করে বছরের পর বছর অজস্র জটিল অঙ্ক কষে গবেষণা থেকে শুরু করে আস্ত এক একটা মহাকাশ অভিযানকে সাফল্যের পথ দেখিয়েছিলেন এই তিন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা।

অথচ বছর তিনেক আগে পর্যন্ত এই তিনজন ছিলেন লোকচক্ষুর একদম আড়ালে। ২০১৬ সালে এই তিনজনের জীবনের ওপরে তৈরি হয় হলিউডের ছবি ‘হিড্?ন ফিগারস’। তার পরই গোটা দুনিয়ার সামনে আসে এই তিন ‘মানব কম্পিউটার’-এর কৃতিত্ব। এবার সেই তিন কৃষ্ণাঙ্গকে সম্মান জানাল নাসা। গতকাল ওয়াশিংটনে তাদের সদর দফতরের সামনের একটি রাস্তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হিড্?ন ফিগারস ওয়ে’। টুইটারে সে কথা ফলাও করে ঘোষণাও করেছে এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। সংস্থার মুখ্য প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইন কাল ওই অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘অ্যাপোলো-১১ চাঁদে অবতরণের ৫০ বছর পর আমরা সেই তিনজনের কথা স্মরণ করছি, যাদের নিয়ে আগে কখনো হইচই হয়নি। অথচ তাদের যাবতীয় জটিল গণনার জন্যই আজ আমরা এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি।’

মারগট লি শেটারলি নামে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা ২০১৬ সালেই ‘হিড্?ন ফিগারস’ নামে বইটি লেখেন। তখনকার দিনে আফ্রো-মার্কিন পরিবারের মেয়েদের অষ্টম শ্রেণির পরে আর পড়তে দেওয়া হতো না। নাসার ‘কম্পিউটার পুল’-এর এই তিন সদস্যা তখন কীভাবে যাবতীয় বাধা টপকে নাসায় কাজ করার সুযোগ পান এবং সেখানে গিয়েও কী প্রচ- জাতি, বর্ণ ও লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হন, তারই গল্প বলে ‘হিড্?ন ফিগারস’।

কাল নতুন রাস্তা উন্মোচনের সময়ে উপস্থিত ছিলেন মারগট। সঙ্গে ডরোথি, মেরি আর ক্যাথরিনের পরিবারের লোকজনও। ‘এই রাস্তায় এলে আমরা সবাই যেন এই তিনজনের অবদান মনে করি। কীভাবে বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসার জন্য এরা যাবতীয় বাধার সঙ্গে লড়ে সাম্য ও মানবিকতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক সময়ে,’ বলেছেন লেখিকা।

ডরোথি এবং মেরি প্রয়াত হয়েছেন কয়েক বছর আগে। কিন্তু ক্যাথরিন জনসন এখনো জীবিত। বয়স ১০০। থাকেন আদি বাড়ি ভার্জিনিয়াতেই। মূলত ক্যাথরিনের নির্ভুল গণনায় ভরসা রেখেই ১৯৬১ সালে অ্যালান শেপার্ড প্রথম মার্কিন হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দেন। পরের বছর জন গ্লেন তার অভিযানের আগে কম্পিউটার থেকে পাওয়া তথ্যের ওপরে ভরসা না করে আরো একবার ক্যাথরিনের দ্বারস্থ হন। প্রায় দেড় দিন টানা জটিল অঙ্ক কষে ক্যাথরিন বলেছিলেন, পৃথিবীর গতিপথ নিয়ে কম্পিউটার যে তথ্য দিচ্ছে তা নির্ভুল। তার কাছ থেকে ভরসা পাওয়ার পরই ১৯৬২ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে অভিযান করতে সম্মত হন গ্লেন।

"