ওজন ৪০ মণ দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের দুর্গাপুর গ্রামে শাহ আলমের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা, যুবরাজকে এক নজর দেখবে বলে। সেলফি তুলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছে, করছে নানা মন্তব্য। এই না হলে যুবরাজ। তার ওজন ৪০ মণ, দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা।

দুর্গাপুরের এই যুবরাজ কোনো রাজপুত্র নয়, শাহ আলম মিয়ার একটি ফ্রিজিয়ান ষাঁড়। শখ করে যার নাম রাখা হয়েছে যুবরাজ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটা একটা হাতি। পাইকাররা দাম হেঁকেছেন ১৮ লাখ টাকা। আর শাহ আলম ২৫ লাখ দাম চাচ্ছেন, কিছু কম হলেও বিক্রি করবেন তিনি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলম মিয়া, পৈতৃক বাড়ি মাদারিপুর জেলার শিবচরে। পাঁচ বছর সিঙ্গাপুরে থাকার পর দেশে ফিরে আসেন। ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহে গড়ে তোলেন আবদুল্লাহ অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম।

মো. শাহ আলম মিয়া জানান, বর্তমানে তার খামারে সাতটি গরু আছে। সবগুলো গরুর আলাদা আলাদা নাম আছে। সবাইকে নাম ধরেই ডাকেন। আসন্ন ঈদুল আজহায় তিনি যে তিনটি গরু বিক্রি করবেন সেগুলোর নাম যুবরাজ, রবি ও সাহেব। ফার্মের কাজ তিনি করেন এক হাতে। গরুগুলো তার খুব আদরের। ফার্মে তিনজন কর্মচারী আছেন।

তিনি জানান, যুবরাজকে তিনি খামার শুরুর সময় মাত্র ছয় মাস বয়সে নিয়েছিলেন। এখন তার বয়স তিন বছর ছয় মাস। যুবরাজের পেছনে এখন পর্যন্ত তার ৯ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিদিন যুবরাজের খাবারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা।

ঝিনাইদহ শহর থেকে আসা দর্শনার্থী শাহিনুর রহমান টিটো জানান, তাদের এলাকার অনেকে যুবরাজকে দেখে গিয়ে গল্প করছিলেন। এই গল্প শুনে তিনিও এসেছেন। তিনি বলেন, গরুটি দেখে গরু মনে হয়নি, মনে হয়েছে এটি একটি হাতি। তিনি তার জীবনে এমন গরু কখনো দেখেননি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান জানান, তারা গরুটির ওজন আনুমানিক ৩৫ মণ বলে ধারণা করছেন। ঈদ আসতে এখনো কিছুদিন বাকি আছে। এরই মধ্যে আরো কিছু ওজন বাড়বে বলে মনে করছেন। অবশ্য গরুর ওজন আরো বেশি হবে বলে তিনি দাবি করেছেন।

 

"