হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি দখলে রাখার অভিযোগ

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি

নরসিংদীর পলাশে এক হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি জোর করে বেআইনিভাবে দখলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করায় নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে ওই হিন্দু পরিবারটি। অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে থানা থেকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের পাঁচভাগ গ্রামের চিত্ররঞ্জন দাসের কাছ থেকে দুটি পুকুরের ৪১ শতাংশ সম্পত্তি পাঁচ বছরের জন্য লিজ হিসেবে নেয় পাশের উত্তরচন্দন গ্রামের আক্তারুজ্জামান। কিন্তু লিজ নেওয়ার মেয়াদ শেষ হলেও ওই হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নিজের লিজ দেওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হচ্ছে ওই পরিবার। সম্প্রতি এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ওই পরিবারের ওপর আরো নির্যাতন বেড়ে যায়।

ভুক্তভোগী চিত্ররঞ্জন দাস জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে বছরে ২০ হাজার টাকা করে ৩০ শতাংশের একটি পুকুর ও বছরে আট মণ ধান দেবে এমন আশ্বাসে ১১ শতাংশের একটি পুকুর ৪১ শতাংশের দুটি পুকুর পাঁচ বছরের জন্য লিজ দিই পাশের উত্তরচন্দন গ্রামের মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে আক্তারুজ্জামানের কাছে। পুকুর দুটি দেওয়ার সময় আক্তারুজ্জামান এক লাখ টাকা নগদ লিজ বাবদ দেয়। কিন্তু বছরে আট মণ ধান যে দেওয়ার কথা ছিল তা না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে। পরে পুকুর দুটির পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে থেকেই আক্তারুজ্জামানকে একাধিকবার জানানো হয়েছে লিজ নেওয়ার মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্র পুকুর ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু লিজ নেওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে আরো পাঁচ মাস বেশি হয়ে গেছে কিন্তু তিনি পুকুর ছাড়ছেন না। তারা এখন জোর করে আমাদের সম্পত্তি জবরদখলে নেওয়ার চেষ্টা করে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি আক্তারুজ্জামান ও তার ছেলে দুলাল মিয়াকে পুকুর ছাড়তে বলা হলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ করলে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকিসহ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। থানা পুলিশও আইনগত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জিনারদী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নার্গিস আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিক সালিস বৈঠকে আক্তারুজ্জামান ও দুলাল মিয়াকে বসার জন্য বলা হলেও তারা স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে বসেনি। এ বিষয়ে আক্তারুজ্জামানের ছেলে দুলাল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে পুকুর দুটি পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেওয়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা স্বীকার করলেও তিনি নতুন করে আবার পাঁচ বছরের জন্য ওই ৪১ শতাংশ সম্পত্তি লিজ নিয়েছে বলে দাবি করেন।

পলাশ থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা এ ব্যাপারে জানান, সম্পত্তি জবরদখলের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য থানার এসআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"