বেড়েছে চিনির দাম কমেছে সবজির

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। নতুন করে শুল্কারোপের প্রস্তাব করাই এরই মধ্যে কেজিপ্রতি এক টাকা করে বেড়েছে চিনির দাম। আরো দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে কমেছে সব ধরনের সবজির দাম। প্রায় সব ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। পাশাপাশি বাড়েনি মাছ-মাংসের দামও। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ঘুরে দেখা যায় এই চিত্র।

অর্থমন্ত্রী বাজেটে নতুন করে শুল্কারোপের প্রস্তাব করার পরদিনই বেড়েছে চিনির দাম। অথচ নতুন শুল্কে চিনি আমদানি হয়নি, এখন বাজারে যা আছে, তার সবই আগের শুল্কে আমদানি করা। গত বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী চিনি আমদানির শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে নিশ্চিত। আর সে ক্ষেত্রে ভোক্তাকে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবেÑ এটাও ধরে নেওয়াই যায়।

প্রস্তাবিত বাজেটে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। শুল্ক বাড়ানোর ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই চিনির দাম বেড়ে গেছে। গতকাল ঢাকার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাইকারি বাজারে গিয়ে ৫০ কেজির বস্তা চিনির পাইকারি মূল্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যদিও খুচরা বাজারে দাম শনিবার বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত বৃহস্পতিবার যে চিনি ৪৭ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে, শুক্রবার তা বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাইকারি বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘গতকালও চিনি ছিল ৪৭ টাকা। আজ সকালেই দেখি বস্তায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে।’

এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের থেকে ১০-২০ টাকা কমেছে সবজির দাম। ঢেঁড়সের কেজি ২০-৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। ঝিঙে পাওয়া যাচ্ছে ২৫-৩০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা কেজি।

সবজির দামের বিষয়ে মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী রফিক বলেন, ঈদ সামনে রেখে সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। এক সপ্তাহের বেশি ছুটি পাওয়ায় রাজধানী থেকে অনেক মানুষ চলে গেছে। আর যারা আছে তারাও বেশি সবজি কিনছে না। এর জন্যই কম দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের সবজির।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় আরো রয়েছে শিম, করলা, কাঁকরোল, পটোল ও বেগুন। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শিম বাজারভেদে বিক্রি হয়েছে ২৫-৩৫ টাকায়। পটোল বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫-৪০ টাকা।

গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে ২৫-৩০ টাকায় নেমে এসেছে। কাঁকরোল বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। বেগুনের কেজি বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা। বরবটির কেজি আগের সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজিগুলোর মধ্যে ধুন্দুল ৪০-৫০ টাকা, শসা ২০-৩০, পাকা টমেটো ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

গত সপ্তাহের থেকে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। আর গরুর মাংস বাজারভেদে বিক্রি হয়েছে ৫২৫-৫৫০ টাকা কেজি। আর খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি।

আর গত সপ্তাহের মতোই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। আর সেই আগের মতোই ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। গত সপ্তাহে আদা ও রসুনের দাম বাড়লেও এ সপ্তাহে আর বাড়েনি।

অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম এখনো বেশ চড়াই রয়েছে। তেলাপিয়া মাছ আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকা কেজি। রুই ২৮০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, ট্যাংরা ৫০০-৮০০, শিং ৫০০-৬০০ এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকা কেজি।

 

 

"