আজ তোর শেষ দিন : এরপর কোপ ও ছুরির আঘাত

সন্ত্রাসীদের রোমহর্ষক আস্ফালন

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাসান ফকির। তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ হাসান ভালো একটি কোম্পানির কাজ নিয়ে ১০ বছর আগে চলে যান দক্ষিণ কোরিয়া। ১০ বছর বিদেশে কাটিয়ে সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেন। দেশে এসে শুরু করেন ইন্টারনেট ব্যবসা। নিজ মেধার গুণে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতাও নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু এসব কিছুই কাল হয় হাসানের। গত মাসের ২৮ তারিখ রাতে পূর্বশত্রুতার জেরে তারই প্রতিবেশী একদল বখাটে যুবক রামদা ও চাকু দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। ওরা ভেবেছিল, তিনি মারা গেছেন।

সরেজমিন রাজধানীর সিটি হাসপাতালে দেখা যায়, হাসান ফকিরে শরীরে অনেক দাগ, এগুলো রামদায়ের কোপ ও চাকুর। পুরো শরীরে প্রায় শতাধিক কোপের চিহ্ন। তার ভাই রবিউল ফকির জানান, হাসানের শরীরে সেলাই লেগেছে অসংখ্য। পায়ের মাংশ পেশিগুলোতে কচুকাটার মতো করে কোপানো হয়েছে। ভাই মরেই গেছিল। আল্লাহ নিজ হাতে পুনরায় জীবন দিয়েছেন। ঘটনার পর পর হাসান ফকিরকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু হাসপাতালে পরিবেশ ভালো না থাকায় তাকে ভর্তি করা ঢাকা সিটি হাসপাতালে। ঘটনার ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাসান এখনো ঠিক মতো কথা বলতে পারেন না।

জানা যায়, গত কয়েক বছর থেকেই হাসানের সঙ্গে গ্রামের কিছু মাদকসেবীর ঝামেলা চলছিল। তারা তাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করার চেষ্টাও করে। এর আগে একটি গ্রাম্য সালিসে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সেই থেকে বখাটে চক্রটি হাসান ফকিরকে মারার জন্য সুযোগ খুঁজছিল। ঘটনার কয়েক দিন আগে ফেরদৌস নামের এক বখাটে তাকে মোবাইলের খুদে বার্তায় একটি বার্তা পাঠায় ‘তোরে জবাই দেব’। সেই বার্তার কয়েক দিন পরই পশু জবাই দেওয়ার মতো করেই কোপানো হয় হাসান ফকিরকে।

ঘটনার পর আহত হাসান ফকিরের ছোট ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা করেন গোপালগঞ্জ সদর থানায়। মামলায় স্থানীয় ৯ জনকে আসামি করা হয়। যারা প্রত্যেইে একাধিকবার হাসান ফকিরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আড়পাড়া গ্রামের ফিরোজ ফকিরের দুই ছেলে সবুজ ফকির ও ফেরদৌস ফকির। রোমান ফকির, আকিজুর গাজী, সাজ্জাদ গাজী, খসরু ফকির, মিরন ফকির গংরা যোগসাজস করে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসান ফকিরের ওপর সংঘবদ্ধ এ আক্রমণ চালায়। তাদের সবাইকে মামলার আসামি করা হয়েছে। আহত হাসান ফকির জানায়, একাধিক কোপের ফলে মরে গেছে ভেবে তারা তাকে ফেলে রেখে যায়। কোপানোর আগে আসামিরা তাকে জীবনের শেষ দিন বলেও হুমকি দিতে থাকে। এ সময় তাদের প্রত্যেকের হাতে রামদা-চাকুসহ ধারালো অস্ত্র দেখতে পান তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয় আড়পাড়ার সাধারণ মানুষ হাসান ফকিরের ওপর হামলাকারীদের ছবি দিয়ে ঘোটা এলাকায় পোস্টারিং করেছে। পোস্টারে হামলাকারী কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের ফাঁসির দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার ১৫ দিন পরেও আসামি ধরা না পড়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আসামিরা পালিয়ে বেড়ালেও হাসান ফকিরের পরিবারের অন্য সদস্যেদের জানে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সিএমএম কোর্টে একটি মামলা করেছেন হাসান ফকিরের ছোট ভাই।

এ মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মনির হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, মামলাটিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি, কোনো এসআইকে মামলাটি না দিয়ে ওসি তদন্তকে এই মামলা তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঘটনাটি ওপর মহল থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

 

"