সুস্থ থাকার কিছু সহজ উপায়

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

সময়মতো ঘুমাতে যাওয়া, ক্যাফেইন পরিত্যাগ আর সকালের রোদটিকে উপভোগ এই কয়েকটি অভ্যাস বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের ঘুমের অভ্যাসটি বদলে দিয়ে পরিবর্তন করা যায় তার শরীর ঘড়ি বা বডি ক্লক-এর। আর এতে করে বাড়বে তাদের সুস্থতা। গবেষকরা বলছেন যে, তাদের পদ্ধতি মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আনতে পারে। প্রত্যেক মানুষের ভেতর একটি জৈব ঘড়ি বা বডি ক্লক কাজ করে যা সূর্যের ছন্দ মেনে চলে। এর কারণেই মানুষের রাতে ঘুম পায়।

কিন্তু কিছু মানুষের এই জৈব ঘড়ি বা শরীর ঘড়িটি অন্যদের তুলনার ধীরে চলে। কিছু মানুষ আছেন যারা ভোরে ঘুম থেকে জাগেন, কিন্তু রাত জেগে থাকা তাদের জন্য হয় কষ্টকর। আবার এমন অনেক রাত জাগা ব্যক্তি আছেন যাদের জন্য ৯টা-৫টার কর্মজীবন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাদের হয়তো অ্যালার্ম ঘড়ির সাহায্যে এমন সময় ঘুম থেকে জাগতে হয় যখন তাদের শরীর কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠে না। গবেষকরা এমন ২১ জন রাত জাগা মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন যারা গড়ে রাতে ঘুমাতে যান আড়াইটায় এবং সকাল ১০টার আগে জাগতে পারেন না।

তাদের জন্য যেসব নির্দেশ : স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে জেগে উঠুন এবং বাইরে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে সকালের আলো উপভোগ করুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রাতরাশ বা সকালের নাস্তা করুন। ব্যায়াম করুন শুধুই সকালে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে দুপুরের খাবার খান এবং সন্ধ্যা ৭টার পর আর কিছুই খাবেন না। দুপুর ৩টা পর আর কোনো ক্যাফেইন নয়। দুপুর ৪টা পর কোনো ঘুম বা তন্দ্রা নয়।

সচরাচর সময়ের দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে ঘুমাতে যান এবং সন্ধ্যার পর থেকে ঘরের আলো কমিয়ে রাখুন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান ও একই সময়ে সকালে উঠুন। তিন সপ্তাহ পর, এই অভ্যাস চর্চাকারী সফলভাবে তাদের শরীর ঘড়িকে অন্তত দুই ঘণ্টা এগিয়ে স্থানান্তর করতে পেরেছেন।

এই বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম, ইউনিভার্সিটি অব সারে এবং মনাশ ইউনিভার্সিটির গবেষণায়। ফলাফলটি প্রকাশ পায় সিøপ মেডিসিন নামে এক জার্নালে। এই অভ্যাস চর্চার ফলে দেখা গেছে যারা দেরি করে ঘুমাতে যান বা অনিদ্রায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে নিদ্রা ভাব, চাপ ও বিষণœতা কমেছে এবং রিঅ্যাকশন টাইমের উন্নতি ঘটেছে। ইউনিভার্সিটি অব সারে’র অধ্যাপক ডেবরা স্কিন বলেন, সামান্য কিছু অভ্যাস চর্চার মাধ্যমে অধিক রাত জেগে থাকা ব্যক্তি তার জৈব ঘড়ি সংশোধন করতে পারেন এবং তার সার্বিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।

 

"