দাফনের পরের দিন ফিরে এলেন গোলাপি!

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

রাজশাহী ও বাঘা প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাঘায় মুখে মবিল মাখানো এক নারীর লাশ গোলাপি বেগমের বলে দাফনের এক দিন পর তাকে জীবিত পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে আড়ানী রেলস্টেশন থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। গোলাপি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন ওই অজ্ঞাত নারীর লাশটি কার?

জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় বাঘা থানার পুলিশ চকবাউসা গ্রামের ভুট্টাখেত থেকে মুখে মবিল মাখানো অজ্ঞাত পরিচয়ে (৪৫) এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পর দিন মঙ্গলবার ওই লাশের ‘পরিচয়’ মেলে। তিনি উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী গোলাপি বেগম বলে শনাক্ত করা হয়।

এদিকে, লাশের ‘পরিচয়’ মেলার পর গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় আড়ানী রেলস্টেশন থেকে গোলাপি বেগমকে জীবিত উদ্ধার করে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। সেখানে গোলাপি বেগমের মামা শাকিব হোসেন, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ভাসুর মাজদার রহমান, জা সাজেদা বেগমের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আসল গোলাপি বেগমকে শনাক্ত করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের মিল দেখে চেয়ারম্যান গোলাপি বেগমকেসহ উভয় পরিবারকে থানায় পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে গোলাপি বেগম বলেন, ঈদের আগে ২৯ মে রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করি। এ টাকা নেওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে পর দিন বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহীর এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাই। ছয় বছরের সন্তান মারুফ হোসেন এবং পেটের পাঁচ মাসের সন্তানের কথা ভেবে গতকাল (বুধবার) সকালে রাজশাহী থেকে মহানন্দা ট্রেনে আড়ানী স্টেশনে আসি। এ সময় স্থানীয়রা চিনতে পেরে আমাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। সেখান থেকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে দুপুর দেড়টার দিকে চারঘাট উপজেলার চারাবটতলা এলাকার সুরজ মিয়া নামের এক যুবক ছবি দেখে দাবি করছেন এ লাশ তার স্ত্রী দোলেনা বেগমের (৩৮)। লাশের দাবিদার দোলেনা বেগমের স্বামী সুরুজ মিয়া বলেন, গত রোববার কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর করে পাইনি। এক মাধ্যমে জানতে পারি বাঘা থানায় একটি লাশ পাওয়া গেছে এবং দাফন সম্পূর্ণ হয়েছে। পরে পুলিশের কাছে ছবি দেখে চিনতে পারি এবং এ লাশ আমার স্ত্রী দোলেনার।

এ বিষয়ে গোলাপি বেগমের ভাসুর মাজদার রহমান বলেন, গোলাপি বেগম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমি বাদী হয়ে ১ জুন বাঘা থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। মুখে মবিল মাখানোর কারণে সঠিকভাবে লাশটি চিনতে পারিনি।

গোলাপি বেগমের শ্বশুর বিচ্ছাদ আলী বলেন, আমার ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় গোলাপি নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করে। প্রতিবাদ করলে নানা কথা শোনায়। ফলে আমরা দেখেও না দেখার ভান করে থাকি। এর মধ্যে আমার ছেলে ও নাতিকে রেখে চলে গিয়েছিল। ১২ দিন পর তাকে জীবিত পাওয়া গেছে। তবে ভুট্টাখেতের লাশ অন্য কারো।

আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আত্মীয়-স্বজনের কাছে জেনে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে মনে হয়েছে, তিনি আসল গোলাপি। এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি মহসীন আলী জানান, উদ্ধারকৃত লাশটি ভুলভাবে তার আত্মীয়রা শনাক্ত করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পারিবারিক গোরস্থানে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাফন করা হয়। এ বিষয়ে একটি মামলাও হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত লাশের মুখে পোড়া মবিল দেওয়া ছিল। এ ছাড়া লাশের পাশ থেকে একটি কালো বোরকা, এক জোড়া সেন্ডেল, একটি গুলের কৌটা পাওয়া যায়। লাশের গলা ওড়না দিয়ে পেঁচানো ছিল। এখন গোলাপি বেগম থানা হেফাজতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, অন্য জায়গায় ওই নারীকে হত্যা করে চকবাউসা গ্রামের ওই ভুট্টাখেতে লাশ ফেলে রাখা হয়। প্রকৃত অজ্ঞাত নারীর লাশ শনাক্ত করা যায়নি। তবে আমাদের কাছে ছবি ও আলামত রয়েছে, সেগুলো দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

"