ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনার দিশা দেবে সিঙ্গাপুর

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানবজাতির বেড়ে চলা নগরপ্রীতির কারণে ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সিঙ্গাপুরে এক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় আদর্শ বসতির স্থাপত্য ও গুণাগুণ বোঝার চেষ্টা করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। ভবিষ্যতে কম জায়গার মধ্যেও আমরা কীভাবে বসবাস করতে চাই? সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় সিঙ্গাপুরে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এক গবেষণাগার গড়ে তুলেছে। তার পোশাকি নাম ‘ফিউচার সিটিস ল্যাব’।

এত নির্মাণকাজ সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর যে বিস্ময়কর রকম সবুজে ভরা, বিজ্ঞানীদের কাছেও তা অজানা নয়। দূরদর্শী নগর পরিকল্পনার কল্যাণেই এমনটা সম্ভব হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো জমিতে নির্মাণ করলে তার কিছুটা অংশে গাছপালা লাগাতেই হবে। সবুজ বহুতল ভবনে মানুষ কীভাবে থাকেন, গবেষকরা তা পরীক্ষা করছেন। বাসিন্দারা কি তাদের প্রতিবেশীদের চেনেন? শহরের পরিবেশের ওপর সবুজের কতটা প্রভাব রয়েছে? জীবনযাত্রার মানই বা কী রকম?

‘ফিউচার সিটিস ল্যাব’-এর গবেষক দলের প্রধান টোমাস শ্রোপফার নিজেও সপরিবারে এমন এক সবুজ বহুতল ভবনে বসবাস করেন। বহুতল ভবনের স্থাপত্যের ক্ষেত্রে ‘ইন্টারলেস’ প্রকল্পকে প্রায় আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রকল্পের ভবনগুলো মাথাচাড়া দিয়ে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করেনি, বরং ধাপে ধাপে পরস্পরের ওপর ছড়ানো রয়েছে। কমিউনিটি হলো, সুইমিং পুল, উঠান সবকিছু বিভিন্ন স্তরে বণ্টন করা হয়েছে। টোমাস বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ প্রাঙ্গণের মধ্যে কীভাবে মানুষের জন্য মনোরম বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, এ ক্ষেত্রে স্থপতিদের কাছে সেটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। ঘনত্বের নেতিবাচক প্রভাব উপেক্ষা করেও কীভাবে উচ্চ মানের জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব, আমার মতে ইন্টারলেস তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

২০৫০ সালে বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যার সঙ্গে আরো ৩০০ কোটি মানুষ যোগ হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের কোনো অঞ্চল ডুবে যাচ্ছে, আর কোথাও দেখা দিচ্ছে খরা। ফলে ফসল উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি খুঁজতে হচ্ছে, বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকায় কীভাবে শস্য ফলানো যায়, তা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে হাইড্রোপনিকস বা জলচাষ। সবুজ অংশগুলোর ব্যবহার ও একাত্মবোধের ক্ষেত্রে গাছপালার অবদান নিয়ে ফিউচার সিটিস ল্যাবের হয়ে গবেষণা করছেন সমাজবিজ্ঞানী মিশেল জিয়াং। বাসিন্দারাই মূলত আবাসনের বাগানটি ব্যবহার করেন। যেমন অবসরপ্রাপ্ত এই ব্যক্তি প্রতিদিন সেখানে ব্যায়াম করেন। তিনি বেশ গর্ব নিয়ে নিজের কেনা ফ্ল্যাটটি দেখালেন। বিশেষ করে বারান্দা থেকে সুন্দর দৃশ্য এবং বাতাস চলাচলের প্রণালির কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না বলে তিনি বেশ মুগ্ধ। তার মতো সিঙ্গাপুরের অনেক মানুষই সরকারি আবাসনে বসবাস করেন। স্কাইভিল এমনই একটি প্রকল্প। প্রায় ৩ হাজার মানুষ সেখানে বসবাস করেন। যেন ছোটখাটো গ্রামের মতো। গ্রামের ধারণাই এই প্রকল্পের মূলমন্ত্র। ৮০টি ইউনিটের সমন্বয়ে এই ‘ভিলেজ’ গড়ে তোলা হয়েছে।

সবুজ অংশগুলো সব বাসিন্দাদের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে। কিন্তু সেখানে ছাদগুলো প্রায় খালি। মানুষের মধ্যে একাত্মবোধ গড়ে তোলা সম্ভবত মোটেই সহজ কাজ নয়। মিশেল জিয়াং মনে করেন, ‘বসবাসের জায়গা ও কিছু গাছপালার ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়। সবার আগে জানতে হবে, কাদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে, তাদের প্রয়োজন কী এবং সেখানে কী ধরনের কার্যকলাপ চলবে।’

ছাদের এমন আকর্ষণীয় বিন্যাস সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না করলে মানুষে মানুষে মেলবন্ধন ঘটে না। মিশেল বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষার সময়ে বুঝতে পারলাম, মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের চাহিদা কতটা জরুরি। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, ছায়া ও শব্দের মাত্রা উপযুক্ত না হলে মানুষ কমিউনিটি এরিয়া ব্যবহার করবে না।’ এই গবেষণা ভবিষ্যতে শহরের জীবনযাত্রা সম্পর্কে একটা ধারণা দিচ্ছে।

 

"