ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরেছে ২৪৭ প্রাণ

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারের ঈদুল ফিতরে গত ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ১২ দিনে ১৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরো ২৬ জন। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

এদিকে গতকাল বুধবার এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদের বলেন, গত ১০ বছরে দেশের সড়কে ২৫ হাজার ৫২৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় গত ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত দেশের ১৮টি জাতীয় দৈনিক, ছয়টি আঞ্চলিক দৈনিক, ১০টি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ এবং জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কারুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ২১২টি দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দেশের সড়ক, মহাসড়কে ১৮৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২৪৭ জন, আহত হয়েছেন আরো ৬৬৪ জন। এর মধ্যে সড়ক ও মহাসড়কের দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত, ৬৫২ জন আহত এবং ৩৭৫ জন পঙ্গু হয়েছেন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে গাড়িচাপার ঘটনা ছিল ৫১টি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৮১টি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১৯টি এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় এসব দুর্ঘটনায় ৬৩টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রোবাস, ৩০টি নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৬৪টি মোটরসাইকেল এবং ২৬টি অন্যান্য যানবাহন জড়িত ছিল। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়াও নৌপথের পাঁচটি দুর্ঘটনায় চার ব্যক্তি নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। আর ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদকেন্দ্রিক যাত্রীর চাপ, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বেশি ভাড়া আদায়, অদক্ষ চালকের হাতে দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন ভাড়া দেওয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী বহন, মহাসড়কে অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, বিপজ্জনক ওভার টেকিং, বিরতিহীন/বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, যাত্রীদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা ইত্যাদি এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিগত ১০ বছরে ২৫ হাজার ৫২৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এই সময়ে ১৯ হাজার ৭৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গতকাল বুধবার বিকালে একাদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। মন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার মামলাগুলো আপসে নিষ্পত্তি হয়েছে তা এ বিভাগে সংশ্লিষ্ট নয়।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিআরটিএ ও এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) বুয়েট কতিপয় কারণ নির্ণয় করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পথচারীসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের যথাযথ সচেতনতার অভাব, যানবাহনের চালকদের দক্ষতার অভাব। আইন অমান্য করারা প্রবণতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব। সড়ক দুর্ঘটনায় যে মানুষ মারা যাচ্ছে তার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে ওভারলোডিং, ওভারটেকিং, যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রীদের অসচেতনতা, চালকদের ট্রাফিক আইন না মানা, এক নাগাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো।’

 

"