যে গ্রামের দেখা মেলে বছরে একবার

প্রকাশ | ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমের অদূরে গোয়া রাজ্যের একটি গ্রাম বছরের ১১ মাস থাকে পানির নিচে। কিন্তু কারদি নামে গ্রামটি এক মাসের জন্য যখন পানির ওপর ভেসে উঠে তখন সেখানকার বাসিন্দারা আবারও তাদের ভিটে-মাটিতে ফিরে আসে এবং পুরোনো সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। বিবিসির সুপ্রিয়া ভোহরা বলেন, ঘটনার শুরু ১৯৮৬ সালে। তখন থেকেই এই গ্রামের বাসিন্দারা জানতেন যে গ্রামটির আর কোনো চিহ্ন থাকবে না। ওই সালেই প্রদেশটিতে প্রথম বাঁধ নির্মাণ হয় এবং এর পরিণতিতে গ্রামটি সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এই গ্রামটি এক সময় দক্ষিণ-পূর্ব গোয়ার একটি সমৃদ্ধশালী গ্রাম ছিল। কিন্তু প্রতি বছর মে মাসে পানি সরে গেলে দেখা যায় গ্রামটিতে কী কী রয়ে গেছে। কাদামাটি, গাছের গুঁড়ি, ক্ষয়প্রাপ্ত ঘরবাড়ি, ভেঙে পড়া ধর্মীয় উপাসনালয়, গৃহস্থালির নানা জিনিস আর পরিত্যক্ত বিরান ভূমি। এইসব কিছু দেখতে পাওয়া যায় পানি সরে গেলে। এই গ্রামের জমিতে ফলন বেশি হয় এমন কথা প্রচলন ছিল। ৩ হাজার মানুষের বাস ছিল এখানে। ধান চাষ, আর গ্রামকে ঘিরে রাখত নারকেল গাছ, ক্যাসুনাট, আম এবং কাঁঠাল গাছে।

হিন্দু, মুসলমান এবং খ্রিষ্টান এই তিন ধর্মের মানুষ এখানে বসবাস করত। কিন্তু দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে গেল যখন ১৯৬১ সালে গোয়া পর্তুগিজদের থেকে স্বাধীন হয়ে গেল। প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গ্রামবাসীদের খবর দিলেন যে যদি প্রদেশের প্রথম এই বাঁধটি করা হয় তাহলে দক্ষিণ গোয়ার সবাই উপকৃত হবে। এই গ্রামের সবাইকে পাশের গ্রামে সরিয়ে নেওয়া হয় আর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সেখানে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এটাও জানানো হয়।

গ্রামটিতে একসময় ৩ হাজারের মতো মানুষ বাস করত। তাদের ভূমি এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় তবে এই বাঁধ থেকে পানি ঐ গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছায়নি যেখানে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারপরও কারদির বাসিন্দারা অপেক্ষায় থাকেন মে মাসের। যখন পানি নেমে যায় তখন তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া গ্রামে ফিরে যান, নিজের ঘরবাড়ি ধ্বংসাবশেষ দেখেন, ভেঙে পড়া প্রার্থনালয়ে প্রার্থনা করেন। আর স্মৃতিচারণ করেন।

 

"