জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন

ঈদযাত্রায় সড়কে নিহত ১৪২ : আহত ৩২৪

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত ও ৩২৪ জন আহত হয়েছে। গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার থেকে ৯ জুন রোববার পর্যন্ত ১১ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত ৯৫টি দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল সোমবার ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, অনলাইন নিউজপোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবার সড়ক ও নৌপথে ঈদ-যাতায়াত স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জনগণ প্রত্যাশিত সেবা পায়নি।

এ বিষয়ে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে গণমাধ্যমকে বলেন, এবারের ঈদে সড়ক-মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট ছিল না। নৌ ও রেলপথ ছিল দুর্ঘটনামুক্ত। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় পদ্মার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল নিরবচ্ছিন্ন ছিল। ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগও স্বাভাবিক ছিল। তবে ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে উপকূলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকলেও একশ্রেণির নৌশ্রমিক ও কর্মচারীরা লঞ্চের ডেকের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছেন। ফলে প্রশাসনের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যত ঈদযাত্রা শুরু হয়। ওইদিন সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও আটজন আহত হয়। পরদিন ৩১ মে ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হন যথাক্রমে ছয় ও সাতজন। ১ জুন ১১টি দুর্ঘটনায় ১০ নিহত ও ৩১ জন আহত হয়। ২ জুন ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়। ৩ জুন সাতটি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে। ৪ জুন দুর্ঘটনা ঘটেছে ছয়টি। এতে নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ১৬ ও ৬২ জন। ৫ জুন ঈদুল ফিতরের দিন ১৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছে। ৬ জুন নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১ ও ৩৩। ওইদিন দুর্ঘটনা ঘটেছে আটটি। ৭ জুন ছয়টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে ১১ জনের, আহত হয়েছে ১৮ জন। ৮ জুন সাতটি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। ৯ জুন ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে পাঁচ ও ২৪ জন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ঈদযাত্রার প্রথম দিন থেকে দূরপাল্লার অনেক ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে অগণিত যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। ঈদের আগে ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-পাটুরিয়া ও ঢাকা-ময়মনসিংহসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন সড়কে মাত্রাতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায় বন্ধ করা যায়নি। ঈদফেরত যাত্রীদের কাছ থেকেও একইভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও তা বন্ধ করতে পারেনি প্রশাসন। এমনকি লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহনও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

"