ফেনী ও নবাবগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ফেনীতে র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রিপন মোল্লা (৩১) নামে জোড়া খুনের এক আসামি নিহত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

ফেনী : ফেনীতে র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার মধ্যরাতে ফেনী সদরের ফতেহপুর রেলগেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজনের নাম মাহবুবুল হাসান রুবেল। তিনি কুমিল্লার বাংগুড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। অন্যজনের নামপরিচয় জানাতে পারেনি র‌্যাব।

র‌্যাব-৭-এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিম বলেন, মাদকের চালান আসার খবরে র‌্যাব সদস্যরা রাতে ফতেহপুর রেলগেট এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির মধ্যে দুই মাদক ব্যবসায়ী আহত হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি হটপটের ভেতরে লুকিয়া রাখা ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান এবং ১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নবাবগঞ্জের জোড়া খুনের আসামি রিপন মোল্লা (৩১) নিহত হয়েছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার মাঝিরকান্দা-মহব্বতপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত রিপন মোল্লা মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের (হৃদয় মঙ্গল গুচ্ছ গ্রাম) এরেন মোল্লার ছেলে। সে নবাবগঞ্জের সাম্প্রতিক জোড়া খুনের মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও রাজৈরসহ বিভিন্ন থানায় দুটি হত্যা, ৫টি ডাকাতি, ১টি অস্ত্র মামলাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। সে আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য ছিল।

গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা-মহব্বতপুর সড়কে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২৫ মে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা হয়। মামলার অন্যতম আসামি রিপন মোল্লাকে শনিবার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা চিতাখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার রাত দেড়টার দিকে রিপন মোল্লাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে বের হয় পুলিশ। পথে মাঝিরকান্দা-মহব্বতপুর সড়কের ডাঙ্গারচক এলাকায় ওত পেতে থাকা রিপন মোল্লার ৭-৮ জন সহযোগী তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় রিপন মোল্লা সহযোগীদের গুলিতে আহত হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল হোসেন, কাজী নাসের, এএসআই মিজানুর রহমান প্রধান, কনস্টেবল সেলিম রেজা, আ. রহমান, ড্রাইভার নোমান আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, ৩ রাউন্ড গুলিসহ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে লিখিতভাবে জানানো হয়।

পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম আরো জানান, রিপন মোল্লা গত ২৩ মে’র নবাবগঞ্জে জোড়া খুনের মামলার অন্যতম আসামি ছিল। ওই মামলার ১২ আসামির ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 

"