ঈদে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে আসা দুই কিশোরীর শ্লীলতাহানি

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

বাগেরহাট প্রতিনিধি

ঈদে বান্ধবীর বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলায় বেড়াতে এসে শ্লীলতাহানি ও মারধরের শিকার হয়েছে দুই কিশোরী। তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা। একপর্যায়ে তাদের আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে। ঘটনা প্রকাশ করলে ছবিগুলো নেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় অপর বান্ধবীর বাবা, মা, ভাবিসহ ১১ জনকে মারধর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের মোশারেফ হোসেন বলেন, তার মেয়ে বেবী আকতার ঢাকার কেরানীগঞ্জে চাকরি করার কারণে ওই এলাকার দুই কিশোরীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। ঈদে তার মেয়ে বেবীর সঙ্গে ওই কিশোরী খোন্তাকাটা গ্রামে বেড়াতে আসে। এ সময় এলাকার বখাটে জসিম উদ্দিন ও সোহেলের নেতৃত্বে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম দর্জি, মিজান সরদার, ইয়াকুব মিস্ত্রি, এলাকার মহিলা মেম্বার রোকেয়া বেগম ও চৌকিদার সগির হোসেনসহ কতিপয় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ‘নষ্টা মেয়ে’ আখ্যা দিয়ে ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে খোন্তাকাটা বাজারের আনসার ও ভিডিপি ক্লাবে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় তাদের আপত্তিকর ছবি তুলে শাসিয়ে বলা হয়Ñ সাংবাদিকদের জানালে এ ছবি নেটে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মহিলা মেম্বার রোকেয়া ওই দুই কিশোরীর শ্লীলতাহানি করার কথা স্বীকার করেন। অন্যদিকে, ঘটনার নেতৃত্বদানকারী জসিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, নুরুল ইসলাম ও রোকেয়া দুজনে তাদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। নুরুল ইসলাম ওদের কাছে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। তবে, নুরুল ইসলাম এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন।

এ সময় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান জমাদ্দার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এনামুল জমাদ্দার কবির এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম অপু ওই দুই কিশোরীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করে বলেন, তারা এদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছেন। পরে ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করেন।

মোশারেফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন খানের লোক। এ কারণে থানা থেকে সালিস করার কথা বলে কালক্ষেপণ করছেন।

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ দিলীপ সরকার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যান মীমাংসার কথা বলে উভয় পক্ষের দায়িত্ব নেন। যদি সমাধান না হয় তাহলে এজাহার দিলে মামলা করা হবে।

 

 

"