ফের অবৈধ দখলে বুড়িগঙ্গার তীর

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বুড়িগঙ্গা তীরে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পুনরায় দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখলমুক্ত সরকারি জায়গা আবার দখল করা হয়েছে সংগঠনের নামে। পাশাপাশি উচ্ছেদ করা স্থান দখল করে বসানো হয়েছে ঈদ মেলা। এর বিনিময়ে টাকা আদায় করছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। সরকারি জায়গা দখল ঠেকানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো বলছে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানার কুড়াঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ সময় নদীর জায়গা দখল করে অবৈধভাবে নির্মাণ করা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর পুনরায় দখল হয়েছে সেই জায়গা।

কুড়াঘাট ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পূর্ব পাশে বসানো হয়েছে ঈদ মেলা। আর এক পাশে জায়গা ভাড়া দেয়া হয়েছে ভ্যান, রিকশা ও পিকাপভ্যান রাখার জায়গা হিসেবে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই জায়গা ভাড়া দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন লাখ টাকার বিনিময়ে লাবু নামের এক ব্যক্তিকে ঈদ মেলা আয়োজনের জন্য জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন। মেলা চলবে আরো ১০ দিন।

মেলার দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন তিনশ থেকে চারশ টাকা হারে ভাড়া আদায় করেন মেলার আয়োজক।

এ বিষয়ে ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, কামরাঙ্গীরচর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে ঈদ মেলা আয়োজন করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। মেলাটি সপ্তাহ খানেক চলবে।

কাউন্সিলর বলেন, কামরাঙ্গীরচর শিক্ষক ফোরাম নামে ১৩০টি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের একটি সংগঠন আছে। তাদের বসার কোনো জায়গা নেই। অদক্ষ শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি ঘর করা হয়েছে। এখানে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, এগুলো সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, শহীদ মিনার কোনো ব্যক্তিগত বিষয় না। যারা উচ্ছেদ করতে এসেছিল এলাকার লোকজন তাদের কাছে আবেদন করেছে, তারা আবেদনটা রক্ষা করেছিল। তারা এটা ভাঙেনি। আমরা প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের কাছে আবার আবেদন করব।

উচ্ছেদ করা জায়গা দখল করে মেলা আয়োজন কিংবা নতুন করে সংগঠনের কার্যালয় নির্মাণের বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না উচ্ছেদকারী সংস্থা বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, আমরা এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি। উচ্ছেদের জায়গা যেন পুনরায় দখল না হয় এ বিষয়টি দেখার জন্য আমরা ১৩টি টিম করেছি। তারা কাজ করছে। তারপরও কিছু জায়গায় এমনটা ঘটছে। আমরা অভিযোগ পেলাম। অবশ্যই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, এ বিষয়ে কোনো তথ্য জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে আমরা তদন্ত করব এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

 

"