শালবনের শীতল ছায়া

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট

ঈদ বা কোনো পূজা পার্বণ এলেই প্রিয়জন ও পরিবারের সবার জন্য বিনোদনের অন্যতম স্থান হচ্ছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা শালবন। বিশাল বিশাল শালগাছ ও ঝাউগাছের শীতল ছায়ায় রয়েছে মেঠোপথ। এ পথ ধরে এগিয়ে গেলে মিলবে গভীর এক অরণ্য। প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে পরিবার ও প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে আসুন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকায় প্রাকৃৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই শালবনে। সারি সারি বিশাল শালগাছ, ঝাউগাছ আর পাখির কলকাকলি যেকারো মনকে আকৃষ্ট করবে শতভাগ নিশ্চিত। প্রকৃতিপ্রেমীদের বিনোদনের প্রথম তালিকায় থাকে হাতীবান্ধার এ শালবন। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে সার্বক্ষণিক মুখরিত থাকে প্রাকৃতিক নিয়মে গড়ে ওঠা এ শালবন। এই শালবনে গাছের নিচে আলাদা করে লাগানো হয়েছে বেতগাছ। পাখির কিচিরমিচির ডাকের সঙ্গে একটু পর পর ডেকে যাচ্ছে ঝিঁঝিঁ পোকা। নানা রঙের ফড়িং, ভিমরুল, মাকড়সা, বুনো ফল দেখে অন্য রকম এক মানসিক স্বাদ পাওয়া যায় শালবনে।

তাই প্রকৃতিপ্রেমীরা একটু অবসর পেলেই প্রশান্তির খুঁজে ছুটে আসেন হাতীবান্ধার এ শালবনে। এখানে বসে প্রকৃতিপ্রেমী ও বিনোদনপ্রেমীদের মিলন মেলা। দিনভর তারা উপভোগ করেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে। এক সময় অরক্ষিত থাকলেও ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপত্তা ও বনরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ এই শালবনকে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। ভ্রমণপিপাসুদের বসার জন তৈরি করা হয়েছে বেশকিছু বিশ্রামাগার ও বসার আসন, সেখানে বিনোদনপ্রেমিদের জন্য রয়েছে শৌচাগারও। মুখরোচক খাবরের পসরা নিয়ে শালবন এলাকার চারদিকে অনেক দোকান থাকলেও নেই কোনো আবাসিক হোটেল বা রেস্টুরেন্ট। শালবনে আগুন্তুকরা প্রয়োজনীয় খাবার সঙ্গে নিয়েই যান এ বনে। তবে এ বনে ঘুরতে বা প্রবেশ করতে কোনো গেট পাশের প্রয়োজন হয় না।

লালমনিরহাট জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে হলেও সেখানে যাওয়ার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো। সড়ক পথে বলুন ও রেলপথেই বলুন খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই যাওয়া যাবে এ শালবনে। রাজধানী ঢাকা থেকে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন অথবা সড়ক পথে বাসযোগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা শহরে পৌঁছতে হবে। এরপর প্রাইভেট কার, বাস, মিনিবাস, রিকশা, ভ্যান ভাড়া করে মাত্র ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাবেন এ জেলার অন্যতম বিনোদনের স্থান হাতীবান্ধার শালবনে। বনে রাত্রী যাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে হাতীবান্ধা শহরে সুলভ মূল্যে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে ডাকবাংলো ও ব্যক্তি মালিকানাধীন রেস্টহাউস বা আবাসিক হোটেলে। বনে ঘুরে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নেই খাবারের হোটেল বা রেস্টুরেন্ট। এজন্য হাতীবান্ধা শহরে রয়েছে নানা স্বাদের হোটেল। এ শহরের এস এস স্কুল গেটে রয়েছে নাইওরী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এ শালবনটি সংস্কার করে বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ঘোষণা করে বিনোদন স্পট করতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। স্থানীয় কলেজছাত্র নুর আলম বলেন, প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় জমান এ শালবনে। ঈদসহ বিভিন্ন ছুটির দিনে বিনোদন প্রিয় মানুষের সমাগমে ভরে উঠে শালবন। বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ঘোষণা করে এ শালবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া জানান, প্রায় অর্ধশতাধিক একর আয়তনের এ শালবনটি রক্ষায় বন বিভাগের এই বিটে জনবল সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত বনরক্ষী না থাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বনটি সংস্কার করে পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম করলে এখানে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে পর্যটনসেবা বঞ্চিত বিনোদন প্রিয় জেলাবাসীর চিত্তবিনোদনের একমাত্র স্পট হতে পারে এই শালবন। এজন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

 

 

"