মেট্রোরেল : পুরোপুরি চালু করতেই বাড়তি সময়

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধাপে ধাপে নয় একইসঙ্গে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেক্ষেত্রে ২০২০ নয় ২০২১ সালেই শুরু হবে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম। কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর পরিপূর্ণভাবে চালু করতেই লাগবে বাড়তি সময়। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ সময়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আরো তৎপরতার তাগিদ দিয়েছেন তারা। এদিকে রেল ট্র্যাক এসে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। আর কোচ নির্মাণ চলছে জাপানের কারখানায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২০ সালে ঢাকার একাংশে ট্রায়াল রানের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের মেট্রোরেল। তবে মেট্রোরেল পুরোপুরি চালু হবে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীতে। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এসব তথ্য জানিয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা যায়, উত্তরা থেকে মিরপুর, আগারগাঁও, ফার্মগেট, শাহবাগ ও টিএসসি হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত করবে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল। মাত্র ৩৭ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছানো যাবে এই রেলে। ২৪ সেট মেট্রোট্রেন উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। চলার পথে ১৬টি স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামা করবে। মাত্র সাড়ে ৩ মিনিট অন্তর অন্তর ট্রেন পাবেন যাত্রীরা। চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে তিনতলার ওপর থেকে ট্রেনে উঠবেন যাত্রীরা। কোচে যত আসন থাকবে তার দ্বিগুণ যাত্রী যাতে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন সেই ব্যবস্থা থাকবে মেট্রোট্রেনে। পাশাপাশি নারীদের জন্য থাকবে সংরক্ষিত কোচ। তবে তারা চাইলে অন্য কোচেও উঠতে পারবেন।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এন সিদ্দিক জানান, ২০২০ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশে প্রথম মেট্রোট্রেন কোচ এসে পৌঁছাবে। এরপর প্রতি মাসে দুই-তিনটি বা চারটি করে কোচ আসতে থাকবে। তবে কোচগুলো আরো আগে নিয়ে আসা যায় কি-না সেই চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এন সিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেলের প্রথম ‘ট্রায়াল রান’ হবে ২০২০ সালে। ট্রায়াল রান সফল হলেই মূল অপারেশন শুরু হবে। মূল অপারেশন হবে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে।

দেশের প্রথম মেট্রোরেল যা ‘এমআরটি লাইন ৬’ প্রকল্প নামে ডাকা হয়। এটি হবে এলিভেটেড বা উড়ালপথে। যাত্রীরা প্রতিটি স্টেশনে চলন্ত সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করবেন। প্রতি সেট মেট্রোরেলে প্রাথমিকভাবে ছয়টি করে কোচ থাকবে। প্রতি ৪ মিনিট পরপর ১ হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করবে একেকটি মেট্রোরেল। ঘণ্টায় চলাচল করবে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটের কম। এভাবে ট্রেনগুলো প্রতিদিন ৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে।

মেট্রোট্রেনের কোচগুলো দেখতে কেমন হবে তা প্রকাশ করেছে ডিএমটিসিএল। ডিএমটিসিএলের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, কোচের সামনে উত্তরা-মতিঝিল লেখা রয়েছে। কোচের গায়ে লাল-সবুজ রঙের মিশেল দেওয়া। ভেতরে মুখোমুখি আসন। তবে মাঝখানে যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা রয়েছে। এছাড়া সিটগুলোতে বাসের মতো হাতল দেওয়া আছে। এরই মধ্যে ডিএমটিসিএলের প্রতিনিধিদল জাপানের কারখানা ঘুরে দেখে এসেছেন কোচের নির্মাণকাজ।

উল্লেখ্য, প্রতিটি কাজের শুরু ও শেষের আগে পরিদর্শনের জন্য দুইবার করে বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাচ্ছেন ডিএমটিসিএলের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল।

প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, উত্তরার দিয়াবাড়ীতে হবে মেট্রোরেলের প্রথম স্টেশন। প্রথম স্টেশনের নাম হবে উত্তরা নর্থ; এরপর উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় ও মতিঝিল পর্যন্ত এই ১৬টি স্টেশন থাকবে। শুরু থেকে শেষ স্টেশন পর্যন্ত যেতে সময় ৪০ মিনিটের কম সময় নেবে একেকটি ট্রেন। স্টেশনে প্রতি ৪ মিনিট পরপর পাওয়া যাবে ট্রেন। চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে রাস্তা থেকে স্টেশনে প্রবেশ করা যাবে। এরপর ‘প্রিপেইড কার্ড’ দিয়ে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন যাত্রীরা। আবার টিকিট কেটেও ভ্রমণের সুযোগ থাকবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেনের দরজাগুলো খুলে যাবে। এরপর যাত্রীরা ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করবেন।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় দেশের প্রথম মেট্রোরেলের মাঠের কাজ। লাইন ৬ এর আওতায় উত্তরা থেকে মতিঝিল। এর মধ্যে প্রথম অংশ উত্তরা থেকে আগারগাঁওয়ের কাজ চলতি ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ধাপের কাজ আগারগাঁও মতিঝিল পর্যন্ত ২০২০ সালে ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। আর সেই বছরেই এই রোডে মেট্রোরেলের চলাচল করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের নতুন লক্ষ্যমাত্রা ২০২১।

এদিকে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রকল্পের জন্য ইতিবাচক তবে এই সময়টা জনদুর্ভোগ সহনীয় মাত্রায় রাখতে আরো কার্যকরী হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, অর্ধেক কাজ শেষ করে চালু করার যে চিন্তা তার বদলে পরিপূর্ণ কাজ শেষ করে মেট্রোরেল চালু করার সিদ্ধান্তে সরকারকে সাধুবাদ দেওয়া যায়। কিন্তু সেক্ষেত্রে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও মূল পরিকল্পনা অনুসারে লাইন ৬ এর কাজ ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা।

 

"