ভালোবাসার কাছে কাঁটাতারের হার

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

হিলি প্রতিনিধি

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে ও স্বজনদের একনজর দেখতে হিলি সীমান্তে ঢল নামে দুই দেশের বাসিন্দাদের। ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে সীমান্ত এলাকার স্বজনদের সঙ্গে এমন সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয় দুই পাড়ের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এবার ঈদের দিনসহ তিন দিন স্বজনদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। আর এ সুযোগে স্বজনদের মিলন মেলায় ভালোবাসা আর আবেগের কাছে হার মানে সীমান্তের কাঁটাতার। ঈদের দিন নামাজের পর থেকেই হিলি সীমান্তের দুই পাড়ে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের এ ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এরপরও অনুমতিক্রমে কিছুক্ষণের জন্য স্বজনদের দেখা পেয়ে খুশি সবাই। অনেককে স্বজনদের সঙ্গে উপহার বিনিময় করতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, মুসলিমদের পাশাপাশি অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সীমান্ত এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনেকেই আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। হিলি সীমান্তে ওপারের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা মোশারফ হোসেন বলেন, আমার বিয়ে হয়েছে ভারতে। এ কারণে আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও নিকটাত্মীয়দের অনেকেই ভারতের বাসিন্দা, তারা সেখানেই থাকেন। সবসময় তো আর পাসপোর্ট-ভিসার মাধ্যমে আসা-যাওয়া সম্ভব হয় না, তাই ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি। এ সময় সীমান্তের শূন্য রেখায় বিজিবি ও বিএসএফের অনুমতিক্রমে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করি। বিজিবির অনুমতিক্রমে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমার মেয়েও তার মামার সঙ্গে দেখা করেছে ও কথা বলতে পেরেছে, এতে আমরা খুব খুশি।

কাঁটাতারের ওপার থেকে ভারতীয় নাগরিক শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশ ভাগের আগে দুই পাশের হিলি এক ছিল, কিন্তু দেশ ভাগের পর অর্ধেকটা ভারতের মধ্যে আর বাকি অর্ধেকটা বাংলাদেশের মধ্যে পড়ে যায়। তেমনি আমরা পড়ে যাই ভারত অংশে, আর আমাদের অর্ধেক পরিবার পড়ে যায় বাংলাদেশে। ঈদ উপলক্ষে তাই স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সীমান্তে এসেছি।

বাংলাদেশের মোশারফ আর ভারতের শহিদুলের মতো হাজারো লোক এভাবেই কাঁটাতারের দুই পাশে ভিড় জমিয়েছেন স্বজনদের একনজর দেখার জন্য। এ যেন কাঁটাতার গলে ভালোবাসা ছড়িয়ে যাচ্ছে দুই দেশের স্বজনদের মধ্যে।

এদিকে বগুড়া থেকে হিলি সীমান্ত এলাকায় ঘুরতে আসা আবদুল আলিম বলেন, আমরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বগুড়া থেকে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী নামক পিকনিক স্পটে বেড়াতে এসেছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে হিলি সীমান্ত দেখতে এসেছি। এখানে দেখলাম একটি গাছের অর্ধেকটা ভারত আর বাকি অর্ধেক অংশ বাংলাদেশে পড়েছে, এ এক অসাধারণ দৃশ্য। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে কড়াকড়ি কম থাকায় শূন্য রেখায় দাঁড়িয়ে অনেক ছবি তুলেছি ও মজা করেছি।

বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার চাঁন মিয়া বলেন, প্রতি বছরই মুসলমান সম্প্রদায়ের যেমন ঈদ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজাসহ দুই দেশের বিভিন্ন উৎসবে হিলি সীমান্তের দুই পাড়ে অনেক মানুষ ভিড় জমান। স্বজনদের এ মিলন মেলায় সব একাকার হয়ে যায়। এবারও ঈদের দিন থেকেই এমন অবস্থা শুরু হয়েছে। নিয়মের মধ্যে থেকে পর্যায়ক্রমে সীমান্তের শূন্য রেখায় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন।

 

"