যেভাবে বদলে গেল হেনার ভাগ্য

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০

এনামুল হক বাদশা, সিংড়া (নাটোর)

৮ বছর আগের কথা। তখন অভাব অনটনের সংসার ছিল হেনা সুলতানার। স্বামী বিভিন্ন ব্যবসা করে লোকসান খেয়ে এক সময় বেকার হয়ে পড়েন। হেনার সংসারের অভাব বাড়তে থাকে। ছেলেমেয়ের লেখাপড়াও এক রকম বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে ধারদেনা ও ঋণ করে সংসার চালাতে গিয়ে বেড়ে যায় ঋণের বোঝা। সেই সঙ্গে দিন দিন বাড়তে থাকে সংসারের দ্বন্দ্ব, কলহ আর অশান্তি। সংসারের এমন দুদর্শার সময়ে হেনা বাড়িতে থাকা পুরোনো মেশিন দিয়ে শুরু করেন সেলাইয়ের কাজ। সে বছর ঈদকে সামনে রেখে কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। পাড়ার মেয়েরা ব্লাউজ, ফ্রক তৈরিসহ নানা ধরনের সেলাই কাজ নিয়ে বাড়িতে ভিড় জমান। ভালো আয় হয় তার। ধীরে ধীরে মুক্ত হতে থাকে আগের ধারদেনা। এবার নড়েচড়ে উঠেন স্বামী আবদুল মান্নান। দর্জির ব্যবসায় আয়ের উৎস ভালো দেখে স্ত্রী হেনা সুলতানার কাজে বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। এভাবেই গ্রামের বাড়িতে কেটে যায় এক বছর।

পরের বছর স্বামীর সহযোগিতায় বগুড়ায় দর্জির ট্রেনিং নেন হেনা সুলতানা। এবার স্বাবলম্বী হওয়ার পালা। সিংড়া বাজারে তখন মেয়েদেও কোনো দর্জির দোকান ছিল না। হেনা সুলতানাই একমাত্র সাহসী নারী যিনি কোনো সংকোচ বোধ না করে সিংড়া বাজারে প্রথম দর্জির দোকান শুরু করে উপজেলায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মাত্র আট বছরেই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। গত রোববার সিংড়া বাজারের পানপট্টি-সংলগ্ন হেনা সুলতানার সেই ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা রাজধানী লেডিস টেইলার্সে গিয়ে দেখা যায়, সাত থেকে আটজন মেয়ে সেলাইয়ের কাজ করছেন।

হেনা সুলতানা বলেন, আমার এই দর্জির কারখানায় মোট ৯ জন মেয়ে কাজ করেন। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে আমার দোকানে কাজ করা অনেক মেয়ে তাদের বাড়িতে আমার মতো কারখানা দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। হেনা বলেন, নিজের চেষ্টায় একটা কিছু করতে পেরেছি এটাই অনেক ভালো।

হেনা আরো বলেন, এ পর্যন্ত সরকাীি কোনো সহযোগিতা পাইনি। সহযোগিতা পেলে কারখানার পরিধি আরো বাড়াব। এতে আরো অনেক মেয়ে হাতে কলমে কাজ শিখে তারাও এক সময় স্বাবলম্বী হতে পারবেন। হেনা সুলতানার স্বামী আবদুল মান্নান বলেন, স্ত্রীর কারখানার কাজে আমি সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছি। এখান থেকে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। এক মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ছেলেটা পড়ছে পঞ্চম শ্রেণিতে। এই কারখানার আয়ে ১০ বিঘা জমি কিনেছি। জায়গা কিনে বাড়ি করেছি।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. আফছার আলী মন্ডল বলেন, রাজধানী লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারিণী হেনা সুলতানা যেভাবে ব্যক্তি উদ্যোগে বাজারে কারখানা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তা খুব প্রসংশার দাবি রাখে। এলাকার নতুন প্রজন্মের নারীদের সহসী হয়ে বিভিন্ন কারিগরি বৃত্তির ট্রেনিং নিয়ে আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে নেমে পড়া দরকার।

"