সংসদে গেলেও রাজপথ ছাড়বে না বিএনপি

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

নির্বাচন ও সংসদ বর্জনের রাজনীতি ছেড়ে শেষ পর্যন্ত সংসদীয় ধারায় ফিরেছে বিএনপি। এত দিন মাঠের বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি পেলেও এবার দুই অবস্থানকেই পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে দলটির নেতারা। সংসদের পাশাপাশি রাজপথে সক্রিয় অবস্থান নিতে এরই মধ্যে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে বিএনপি। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে বার্তা দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলে। খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো ব্যবস্থা না হলে ঈদের পরই রাজপথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এজন্য প্রয়োজনীয় কাজ মনিটরিং করছেন লন্ডনে অবস্থারত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির সিনিয়র দুই নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে অনেকের কাছে প্রশ্নবোধক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদের তা বিএনপির জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে। একই সঙ্গে সংসদে ও রাজপথে শক্ত অবস্থান বিরোধী রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। সদস্যরা সংখ্যায় কম হলেও তা কোনোভাবেই অগ্রাহ্যের পর্যায়ের নেই। সংসদে গিয়ে এমপিরা ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে যদি সেই রকম স্পেস পায়। কেননা দল হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব যেমন থাকছে আবার রাজপথে সক্রিয় অবস্থান নিতে বাইরে থেকেও কাজ চলছে। একই সঙ্গে দুই ধারায় দায়িত্বশীল আচরণ দলকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে। তারা বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনার রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। মিডিয়াগুলোও সেন্সর ভেতর দিয়ে চলছে। সংসদে বিএনপির সদস্যরা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন। বিএনপির দু-একজন এমপির সংসদে দেওয়া বক্তব্য দেশের জনগণের মাঝে বেশ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। আমরা মনে করি, সরকারে বিরুদ্ধে এ অল্প কয়েকটি ভয়েজই জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। আর বিএনপি সংসদে যাওয়ায় দেশের মানুষের নজর বাড়বে সংসদের প্রতি। সঙ্গতভাবেই কাভারেজও পাবে দলটির সদস্যরা। যা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

তাদের দাবি, সংসদে যাওয়া মানেই নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া নয়। সীমিত সুযোগের সদ্ব্যবহারও বিএনপি ছাড়তে রাজি নয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির কাজগুলো শেষ করে আনা হচ্ছে। ঈদের পরে সাংগঠনিক আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমরা নেব। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চেয়াপারসনের মুক্তি আন্দোলন একটা গতি পাবে, ইনশাআল্লাহ।

সংসদে যোগ দেওয়া বিএনপির কয়েকজন এমপি জানান, নতুন একটি অর্থবহ নির্বাচন ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাতে তারা ভূমিকা পালন করবেন। সংখ্যায় কম হলেও সংসদে ঝড় তুলতে চান তারা। সরকারের নানা দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকা-ে সোচ্চার থাকবেন। পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজের প্রতি সংহতি জানাতেও কার্পণ্য করবেন না।

জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত হারুনুর রশীদ বলেন, দ্রুত সংসদ ভেঙে দিয়ে জনগণের সংসদ এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতেই আমরা শপথ নিয়েছি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পূর্বশর্ত হচ্ছে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। এসব দাবিতে আমরা সংসদে সোচ্চার থাকব। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংসদে তুলে ধরব। চেষ্টা করব তবে কতটা পারব জানি না। এক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটা দেখতে হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যানারে ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এদের মধ্যে পাঁচজন শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন। বগুড়া থেকে নির্বাচিত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকায় তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ওই আসনের উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। এছাড়া একটিমাত্র সংরক্ষিত নারী আসনে এরই মধ্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

জানতে চাইলে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য হতে যাওয়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, সংসদে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। দেশে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়ম চলছে। এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলব। তিনি বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে দল আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে তা নিষ্ঠা, সততার সঙ্গে পালন করতে সচেষ্ট থাকব।

জানা গেছে, গত উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে যে ২৫০ জন নেতা বহিষ্কার হয়েছিলেন তাদের সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে দল।

 

"