জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক অসহায় মুক্তিযোদ্ধা

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০

কলি হাসান, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আবদুর রহমান। পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা এখন অচল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসার অভাবে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। জীবনযুদ্ধে তিনি পরাজিত।

অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান বলেন, শৈশব জীবন থেকে আমার বাবা ও মা আমাকে খুব আদর করত। কুল্লাগড়া গ্রামে শৈশব কেটেছে আনন্দে। আমি বিরিশিরি পিসিনল উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। ২৫ মার্চ ভয়াবহ হত্যাকান্ডের পর আমার বন্ধু জিন্নত আলীকে নিয়ে ভারতে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গৌরীপুরের তোফাজ্জল হোসেন চুন্নু এবং আমি সহকারী কমান্ডারর টুআইসির দায়িত্বে ছিলাম। মে মাসের প্রথমদিকে ১১নং সেক্টরের সাবসেক্টর কমান্ডার ময়মনসিংহের হাবিবুর রহমান হাবির নেতৃত্বে বিজয়পুরের যুদ্ধে প্রথম আক্রমণে আমরা গুলি চালিয়ে ৩৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য হত্যা করেছি। এই যুদ্ধে সন্তোষ নামে আমাদের এক সহযোদ্ধা শহীদ হন, তার বাড়ি ছিল কুরালিয়া। তৎকালীন এমপি তারা মিয়া এই যুদ্ধে আমাদের সাথে ছিলেন। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধে আমাদের আরেক সহযোদ্ধা রসরঞ্জন বোমার আঘাতে পা হারান। আরেক যুদ্ধে আমরা সবাই টাঙ্গাডি নামক স্থানে পৌঁছালে পাঞ্জাবিদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা আমাদের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে আমাদের কেউ নিহত না হলেও পাঞ্জাবিদের ১৮ থেকে ১৯ জন সৈনিক নিহত হয়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৪ সালে গৌরীপুর কলেজ থেকে আইএ পাস করি। আজ আমি নিঃস্ব, রোগাক্রান্ত। এক মেয়ে রোকশানা বেগম এইচএসসি এবং ছেলে হুমায়ূন কবীর অষ্টম শ্রেণি পাস। সন্তানদের কোন কর্মক্ষেত্রে সুযোগ করতে না পারায় চরম দরিদ্রতার মধ্যদিয়ে আমার জীবনযাপন চলছে। অর্থাভবে আমার সন্তানদের বেশি শিক্ষা দিতেও পারিনি, পারিনি কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে আমি এক পরাজিত সৈনিক। মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের চিকিৎসায় সরকারের আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার।

 

"