এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মানেই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। যানজটের কারণে বিগত সাত থেকে আট বছর ধরে এ মহাসড়কের অপর নাম ভোগান্তি। কুমিল্লা থেকে ঢাকার যাতায়াত সময় পৌনে ২ ঘণ্টার মতো হলেও কখনো কখনো এ যাত্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টাও লেগে যায়। এর কারণ ছিল অতিরিক্ত যানবাহন আর চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই লেনের মেঘনা ও গোমতী সেতুর নির্মাণ কাজ। অবশেষে এ ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গোমতী নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় সেতুর উদ্বোধন করা হবে। একই দিন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতুর উদ্বোধন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় সেতু দুটির উদ্বোধন করবেন। এর মধ্য দিয়ে সেতু দুটির ওপর দিয়ে যানবাহন উন্মুক্ত হবে। এতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা অনেকটা নির্বিঘœ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯২ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি এশিয়ান হাইওয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের সংযোগস্থলের পাশাপাশি দেশের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দর নগরী চট্টগ্রামেরও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

স্থানীয় সূত্র মতে, জাতীয় এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। গোমতী-মেঘনা এ দুই সেতুর টোলপ্লাজা অতিক্রম করতে গিয়ে যানজটের মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। নিত্যদিনের যানজটের কারণে মহাসড়কটি মহাভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। বিগত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে চলমান এ ভোগান্তির অবসানে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় গোমতী-মেঘনা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গোমতী নদীর ওপর ১৭টি স্প্যানের ১ হাজার ৪১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় গোমতী সেতু এবং সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর ওপর ১২টি স্প্যানের ৯৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে চলে ৪১তম মাসে এসে শেষ হয় সেতু দুটির নির্মাণ কাজ।

মেঘনা সেতুর প্রকৌশলী আমিনুল করিম জানান, ৯৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে দ্বিতীয় মেঘনা সেতুতে একটি জয়েন্ট এক্সপেনশন রয়েছে। যার ফলে এই সেতুতে যানবাহন চলাচলে কোনো বিঘœ সৃষ্টি হবে না। খুব দ্রুতগতিতে সেতুতে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। পুরোনো মেঘনা সেতুটি দুই লেনের হলেও নতুনটি চার লেনের। অর্থাৎ দুটি সেতুতে মোট লেন রয়েছে ছয়টি। চার লেনের সড়ক দিয়ে যানবাহন এসে দুটি সেতুতে ছয় লেনে চলাচল করতে পারবে। ফলে আগের মতো সেতুর কারণে আর যানজট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। সেতুগুলো এখন যানজটমুক্ত থাকবে।

এই মহাসড়কে চলাচলকারী হানিফ পরিবহনের চালক শওকত ইমাম জানান, এই মহাসড়কে প্রতিদিন চলাচল করা যে কত কষ্টের তা বলে শেষ করা যাবে না। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার তো আরো ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এই মহাসড়ক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এই সড়কে। চরম ভোগান্তি বলতে যা বোঝায়, তার সবটাই আমরা ভোগ করে আসছি। তবে এবার আশা করছি নতুন সেতুটি খুলে দেওয়া হলে আর ভোগান্তি খাকবে না। আমরা একটু স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারব। যাত্রীরাও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।

"