মেরু অঞ্চলে চাষবাস!

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

মেরু অঞ্চলের চরম শীতল পরিবেশে চাষবাসের কথা ভাবা যায় কি? নরওয়ের উত্তরে এক দ্বীপে এমনই দুরূহ কাজ করে দেখাচ্ছেন এক ব্যক্তি। লতাগুল্মের পর শাকসবজিও উৎপাদন করতে চান তিনি। নরওয়ের উত্তরে স্পিৎসব্যার্গেন দ্বীপে শীতকালে মাসের পর মাস ধরে অন্ধকার থাকে। মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাটিও জমে যায়। সেখানে মানুষের তুলনায় তুষার ভালুকের সংখ্যা বেশি।

বিশ্বের উত্তরতম বসতিতে বেঞ্জামিন ভিডমার লতাগুল্ম ও শাকসবজি চাষ করছেন। সহকর্মী হেগে গিসকের সঙ্গে তিনি এখানে এক পরীক্ষা চালাচ্ছেন। জায়গাটির নামও রেখেছেন ‘ল্যাব’। প্রায় ক্রান্তীয় এই পরিবেশে বীজ প্রস্ফুটিত হয়। বেসিল বা তুলসীর মতো অনেক লতাগুল্ম গজিয়ে ওঠে। হেগে বলেন, ‘টাওয়ার ঢোকানোর পর আর্দ্রতা যে বেড়ে গেছে, সেটা লক্ষ করেছেন তো? কারণ আমরা তার মাত্রা ২০ থেকে প্রায় ৪৫ বা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছি।’

মেরু অঞ্চলের মালিদের আরো অনেক পরীক্ষা চালাতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আগের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ভিডমার শুধু তাজা শাকসবজি খেতে চেয়েছিলেন। তখনই তার মাথায় এই আইডিয়া আসে। কোনো এক দিন সেখানে টমেটোও গজাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। পৃথিবীর এত উত্তর প্রান্তে যা কখনো ঘটেনি।

বেলা ৩টা নাগাদ অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। বেঞ্জামিন এমন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। আসলে তিনি ফ্লোরিডার মানুষ। প্রায় ১০ বছর আগে জাহাজের পাচক হিসেবে তিনি বরফের এই দ্বীপে এসে পৌঁছান। বেঞ্জামিন বলেন, ‘আসলে আমি অন্ধকার এই মৌসুম বেশ উপভোগ করি। আলোর মৌসুমের মতোই তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। সেটাই হলো চ্যালেঞ্জ। অন্ধকার মৌসুমে বেশ নিরুদ্বেগ থাকা যায় বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। আলো ফিরে এলেই আমাদের ব্যস্ততা খুব বেড়ে যায়, সারাক্ষণ ছোটাছুটি করতে হয়। কাজ থামানোই বড় চ্যালেঞ্জ। আমার কাছে অন্ধকার মৌসুম অনেক আরামের।’

অন্ধকার হোক বা আলো, বেঞ্জামিন ভিডমারের বাগান ফুলেফেঁপে উঠছে। উৎপাদন ক্ষমতা খুব সীমিত হওয়ায় এমনকি বেশ কিছু খদ্দেরকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। স্পিৎসব্যার্গেন নরওয়ের উত্তর কেপ থেকেও প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। ফলে সব খাদ্যই বিমানযোগে সেখানে পাঠাতে হয়। ফলে গোটা প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই বেঞ্জামিনের বিকল্প দেখাতে চান। রাঁধুনি হিসেবে আন্ডার্স হর্ন বলেন, ‘আমি অন্য রাঁধুনিদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমরা তার পার্মাকালচার ফার্ম দেখতে গেছি। সভালবার্ডে তাজা লতাগুল্ম দেখে বিস্মিত হয়েছি।’

এই ফার্ম কিন্তু শুধু ব্যয়বহুল নয়। এমনকি যে মাটিতে লতাগুল্ম বেড়ে উঠছে, সেটি পুনর্ব্যবহার করা হয় ও সার হিসেবে পচানো হয়। অজানা মহাকাশযানের মতো দেখতে হলেও এই গ্রিনহাউস আসলে মেরু এলাকার এক নার্সারি। এই গম্বুজের নিচে অন্ধকার মৌসুমে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। তবে আলোর মৌসুম শুরু হলেই লতাগুল্ম গজিয়ে উঠে সব কিছু সবুজ করে দেয়। বেঞ্জামিন ভিডমার বলেন, ‘মিডনাইট সান পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই সূর্যের আলো থাকে। সূর্য আকাশের চারিপাশে ঘুরে চলে এবং ভেতরে তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যায়। আমি গাজর বা আলুর মতো শিকড়ভিত্তিক সবজি চাষ করতে চাই।’

গম্বুজ ও তার নির্মাতা এরই মধ্যে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছেন। প্রায় প্রতিদিনই মানুষজন তার কাছে এসে সেসব জানতে চান। মানুষ সেসব লতাগুল্ম দেখতে ও চোখে দেখতে চান। বলগা হরিণের মাংসের সঙ্গে তারা শাকসবজি ও মাখা আলু রান্না করেন। এবার তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে বেসিল বা তুলসী পাতা, যা নিজের বাগানেই গজিয়ে উঠেছে।

 

"