উত্তরায় অবৈধ মার্কেট : ব্যবস্থা নিচ্ছে না রাজউক

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী উত্তরায় একটি আবাসিক প্লটে কাপড়ের মার্কেট গড়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা। এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন আবাসিক এলাকায় কাপড়ের মতো অতি দাহ্য জিনিসের এ মার্কেট অগ্নিঝুঁকিতে আছে। তাদের প্রশ্নÑ আবাসিক এলাকায় রাজউকের নাকের ডগায় কীভাবে এ ধরনের মার্কেট গড়ে উঠে। রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে এ মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে এ মার্কেটের সঙ্গে জড়িতরা দাবি করেছেন জায়গা ভাড়া নিয়ে মার্কেট করা হয়েছে। এটা ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপার এখানে রাজনীতি বা দলীয় কোনো কিছু নেই।

জানা গেছে, এর আগে অভিযান চালিয়ে মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ১ সপ্তাহের মাথায় আবারও চালু করা হয় মার্কেটটি। একবার অভিযানের পর আবার কি করে সেই ভাঙা মার্কেট আবার গড়ে তোলা হয়Ñ এই প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মনে। সম্প্রতি রাজউকের সাঁড়াশি অভিযানে মানুষের বাড়ির ভেতরে ঢুকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও ৫ কাটার একটি আবাসিক প্লটে গিঞ্জি পরিবেশে ৭০-৮০টি দোকান ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা।

রাজউক উত্তরার অথরাইজড অফিসার অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমরা এর আগে এখানে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম। একটি গণমাধ্যমে দেখলাম আবারো মার্কেট তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৭নং সেক্টরের ২৭ রাস্তার উত্তর মাথায় ৩১নং প্লটে গড়ে তোলা মার্কেটে ৫/৮ ফুট সাইজের একটি দোকান থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এ মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের হাইব্রিড নেতা ও বিএনপির নেতার যোগসাজশ রয়েছে। জানা যায়, প্লট মালিক বিএনপি নেতা জামাল চৌধুরী। তিনি নরসিংদী-৩ আসন থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচন করে পরাজিত হন। বর্তমানে তিনি আরেক বিএনপি নেতা উত্তরার সালাম সরকারের মালিকানাধীন সরকার বিল্ডার্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন হাইরাইজ বিল্ডিং বানাতে। কিন্তু প্লটটি আবাসিক, সে কারণে তারা কাজে হাত দিতে পারছেন না।

সালাম সরকার এ বিষয়ে জানান, প্লটটি বাণিজ্যিক করতে কাজ চলছে। জমির মালিক তার এলাকার কিছু লোককে দিয়ে এখানে মার্কেট তৈরি করেছেন, প্লটটি এখনো তিনি আমাকে বুঝিয়ে দেননি। প্লট মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিনিধির মাধ্যমে জানান, এই প্লট দেখাশোনার দায়িত্ব তিনি তার একজন আত্মীয়কে দিয়েছেন, সে এখানে মার্কেট বসিয়েছে বলে শুনেছি। অবাসিক প্লটে মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে তিনি কোনো কথাই বলেননি। এর আগে রাজউক কবে তার প্লটে অভিযান চালিয়েছিল সেই বিষয়েও তার স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, বর্তমানে যারা মার্কেটটি নির্মাণসহ দেখভাল করছেন তারা সবাই উত্তরা ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, মার্কেট পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রাছেল বলেন, ‘প্লট ভাড়া নিয়ে মার্কেট করেছি। এখানে বেআইনির কি আছে?’

মার্কেটটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নামে পরিচালনা হতো বলে জেনেই সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন সেখানে ইনভেস্ট করেছেন। পরে খোঁজ নিয়ে দেখেন আসলে এটা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কোনো ব্যবসা না। তিনি জানান, এটা আমরা কয়েকজন মিলে দেখাশোনা করি। মালিক পক্ষের থেকে মাসে দুই লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে প্লটটি নিয়েছেন শাহাবুদ্দিন ভাই। যিনি জামাল চৌধুরীর একজন আত্মীয়ও। মালিক পক্ষের সঙ্গে যে দলিল করা হয়েছে সেখানে সাক্ষী হিসেবে ১নং ওয়ার্ডের সভাপতি খোকা ছিলেন তার মানে এই নয় যে এটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যবসা। যারা আমাদের বিএনপি বলে চিহ্নিত করতে চায় বা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগকে কলঙ্কিত করতে চায় তারা অন্য উদ্দেশ্যে এটি করছেন।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার বিষয়ে ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, এ মার্কেট বৈধ না অবৈধ বলতে পারব না। এর সঙ্গে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুক্ত থাকার কথাও সঠিক নয়। যারা জড়িত আছেন এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু করা হলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থার সুপারিশ করবো।

উত্তরা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আউয়াল দাবি করেছেন, আমরা যারা সুপারশপ বা মার্কেটে ব্যবসা-বাণিজ্য করি, তাদের জন্য এ ধরনের অবৈধ মার্কেট কার্যক্রম ব্যাপক ক্ষতি করে। শুনেছি ওই মার্কেটের ৪০ স্কয়ার ফিটের ভাড়া নাকি আমাদের মার্কেটের বড় একটি দোকানের থেকেও বেশি। যা কোনোভাবেই মানা যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। অন্য বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতাও এ ধরণের অবৈধ মার্কেট কার্যক্রমের প্রতিকার চান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট।

 

"