ইলেকট্রিক স্কুটারে প্যারিস দর্শন

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

পরিবেশদূষণ ও যানজটের মতো সমস্যার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে নাগরিক পরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ চলছে। প্যারিসে এক ইলেকট্রিক স্কুটার এক্ষেত্রে বড় অবদান রাখছে। তবে নতুন এই যানকে কেন্দ্র করে সমস্যাও কম নয়। সেন নদীর তীরে এমন সুন্দর ভ্রমণের সুযোগ এর আগে ছিল না, যেমনটা এখন তিন চাকার ত্রোতিনেৎ স্কুটারে চেপে করা যায়। বেশ কয়েক মাস ধরে এই ইলেকট্রিক স্কুটার প্যারিসে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই স্কুটারে প্যারিস পরিভ্রমণ এখন বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ক্রিস্টফ ওড্রি এক ফ্যাশন স্টোরের মালিক। তিনিও এই যানের বড় অনুরাগী। মিটিং হোক বা দোকানের জন্য কেনাকাটা, তিনি শুধু ত্রোতিনেৎ চালিয়ে সব জায়গায় যান। ক্রিস্টফের মতে, এই স্কুটার পরিবেশবান্ধব ও অন্যান্য যানের তুলনায় অনেক সস্তা। মালিকানারও প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোনের অ্যাপে দেখা যায়, কাছে পিঠে কোথায় খালি ত্রোতিনেৎ রয়েছে। তারপর কোড স্ক্যান করে লক খুলে স্কুটার চালু করা যায়।

বাকিরা নজর দিলে সেই আনন্দের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এমনকি সাইকেল চালকরাও প্রায়ই তাদের পথ ছেড়ে দেন। এর মধ্যে প্যারিস শহরে আটটি কোম্পানি ত্রোতিনেৎ চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। প্রায় সব রাস্তার কোণেই এমন যান পাওয়া যায়। বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এই ইলেকট্রিক স্কুটার খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি সম্বল করে সহজেই শহর ভ্রমণ করা সম্ভব। তবে এর বিপদও রয়েছে। সবাই কিন্তু ত্রোতিনেৎ সামলানোর যোগ্য নন। অনেকে আবার বলগাহীন গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিপজ্জনকভাবে পাশ কাটিয়ে সবার আগে চলার চেষ্টা করেন। এক ট্যাক্সি ড্রাইভার শহরের হাইওয়ের ওপর এমন এক স্কুটারের কেরামতির ভিডিও তুলেছেন। সে সময় ট্যাক্সির গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার। অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল সেই রাইড। মোটরসাইকেল চালকরাও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কারণ তাদেরও বাকি যানচালকদের মতো নিয়ম মেনে চালাতে হয়। অথচ স্কুটার চালকরা নিয়মের পরোয়া করেন না। এক পথচারীর মতে, ‘ত্রোতিনেৎ চালকরা ট্রাফিক আইন জানেনই না। কোথায় চালানোর নিয়ম রয়েছে, তাই জানেন না। প্রায় তাদের বাস লেনে চালাতে দেখা যায়। হেলমেট বা গ্লাভস পরাও কি উচিত নয়? খুবই বিপজ্জনক।’

৩১ মার্চ ১৮৮৯ সাল থেকে প্যারিসের শঁ দ্য মার-এর উত্তর পশ্চিমে দাঁড়িয়ে গগনচুম্বী স্থাপনাটি। বছরে ৭০ লাখ দর্শনার্থীকে নিজের কাছে টেনে আনে আইফেল টাওয়ার, যা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের পাড়ি জমানো গন্তব্য। প্যারিসের পথচারীরা সবচেয়ে বেশি বিরক্ত। হয় পথঘাট অব্যবহৃত ত্রোতিনেতে ভরে যায়। যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় বিপদ দেখা দিতে পারে। এক শহরবাসী নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি আমি অপেরার কাছে রাস্তা পেরোতে চাইছিলাম। ট্রাফিক লাইট ছিল সবুজ। হঠাৎ কোথা থেকে যেন উল্কার বেগে এক ত্রোতিনেৎ এসে পড়ল। তার সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মারাত্মক পরিণতি হতে পারত।’

প্রাথমিক পর্যায়ে ‘যা খুশি তাই করার নীতি’ কার্যত মেনে নেওয়ার পর প্যারিস পৌর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। ভাড়ার কোম্পানিগুলো এবার আইনগতভাবে গ্রাহকদের আচরণের দায়িত্ব নিতে হবে। প্যারিসের ডেপুটি মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেন, ‘যারা ফুটপাথের ওপর দ্রুতগতিতে স্কুটার চালিয়ে বাকিদের বিপদে ফেলেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা পথে নামছি। এমন আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেখানে সেখানে ত্রোতিনেৎ ফেলে রাখাও বন্ধ করব আমরা।’

তবে ঠিক কোন বিধিনিয়মের আওতায় ত্রোতিনেৎ চলতে পারবে, পৌর কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয়। ত্রোতিনেতের ভক্ত হিসেবে ক্রিস্টফ অবশ্য তেমন উদ্বিগ্ন নন। তার মতে, ‘এটা সত্যি, মানুষ যেমন খুশি সেভাবে স্কুটার চালাচ্ছেন। কিন্তু মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকরাও মর্জিমাফিক চালাচ্ছেন। সবকিছু সামলে চলতে হয়। প্যারিসের রাস্তায় সবাই বিপজ্জনক। সেটাই হলো সমস্যা।’ তবে ক্রিস্টফ নিশ্চিত, যে এই সমস্যার সমাধান অবশ্যই সম্ভব। ত্রোতিনেৎ ট্রাফিক কাঠামোর মধ্যে তার নিজস্ব জায়গা খুঁজে নেবে বলে তার বিশ্বাস। শুধু প্যারিসের মানুষের প্রতিভার ওপর ভরসা রাখতে হবে।

"