আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এজন্য গ্রহণ করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা।

বাণীতে তারা শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে এ দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে জ্ঞান, মেধা, কর্মদক্ষতা ও কৃতিত্বে নিজেদের আরো ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই তিথিতে বুদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন নেপালের লুম্বিনী কাননে। এ রাতেই তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেছিলেন ভারতের বিহার রাজ্যের বুদ্ধগয়ায়। এ ছাড়া গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুও হয়েছিল এ রাতেই। আর এ কারণেই এ তিথিকে বলা হয় ত্রিস্মৃতিবিজড়িত বুদ্ধপূর্ণিমা।

দিনভর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দিনটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন, বাসাবো সবুজবাগ বৌদ্ধ বিহার দিবসটি উৎসবমুখর এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপনের জন্য দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধপূজা, মহাসংঘদান এবং আলোচনা সভা।

সিলেটে কড়া নিরাপত্তায় উদযাপিত হবে বুদ্ধপূর্ণিমা

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’ যথাযথভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সিলেটের বুদ্ধ সম্প্রদায়। সিলেট নগরের আখালিয়া নয়াবাজার ব্রাক্ষণশাসন বৌদ্ধ বিহারে সকাল ৯টায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন। এ ছাড়াও ভিক্ষু পিন্ডদান, আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত করা হবে।

এদিকে, বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই উৎসব নির্বিঘেœ উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তাবলয় নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বৌদ্ধ বিহার ও বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পুরো এলাকায় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)-এর পক্ষ থেকে তিনস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র‌্যাবের বিশেষ টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ও মোটরসাইকেল টহলসহ নিয়মিতভাবে পরিদর্শনের মাধ্যমে বৌদ্ধ বিহার ও তার আশপাশ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে অবস্থানে থাকবেন বাহিনীটির সদস্যরা।

র‌্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এ উৎসব উদযাপন নির্বিঘেœ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বৌদ্ধ বিহার এলাকায় তিনস্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়াও বাড়তি নজরদারিও রয়েছে।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. জেদান আল মূসা বলেন, ‘বুদ্ধপূর্ণিমা বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব। বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গার মতো সিলেটেও পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিলেটের বুদ্ধপূর্ণিমার অনুষ্ঠান আখালিয়ার বৌদ্ধ বিহারকে কেন্দ্র করেই। ফলে সেখানেই আমাদের পোশাকি পুলিশের সঙ্গে সাদা পোশাকি পুলিশ সদস্য থাকবেন। টহল পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া চেকপোস্টের পাশাপাশি বুদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকেরা যেখানে বাস করেন; সেসব এলাকায় নজরদারি থাকবে।’

 

"