বেনাপোলে যাত্রী হয়রানি

২০ হাত পথ হাঁটতেই গুনতে হবে ৪৫ টাকা

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

বেনাপোল স্থলবন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনের ভেতর দিয়ে মাত্র ২০ হাত দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য পাসপোর্টধারী যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৪৫ টাকা। যদিও কর্তৃপক্ষ চার্জ ধারণ করেছে ৪১ দশমিক ৭৫ টাকা, বাকিটা কোথায় যায় কেউ জানেন না। আর ইমিগ্রেশন পার হয়ে নো ম্যানস ল্যান্ড পর্যন্ত যেতে ৭ জায়গায় পাসপোর্ট দেখার নামে চালানো হয় তল্লাশি। এ ছাড়া সুযোগ পেলেই নিরাপত্তা কর্মীদের উৎকোচ দাবি তো আছেই। এ নিয়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে চলেছে।

কর্তৃপক্ষ বলছেন, এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ব্যবহারের চার্জ হিসেবে। আর যাত্রীরা বলছেন, তাদের টার্মিনালের কোনো সেবা গ্রহণ করতে হয় না। এই চার্জ অহেতুক।

জানতে চাইলে বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, ‘আমরা পাসপোর্ট যাত্রীদের তল্লাশি বা হয়রানিমূলক কাজ করি না। পাসপোর্ট যাত্রীরা বন্দরের টার্মিনাল ভবন ব্যবহার করেন। তার বিনিময় আমরা ৪১ টাকা ৭৫ পয়সা বন্দর চার্জ নিয়ে থাকি। আমরা তাদের জন্য বিশ্রামের জায়গা, বাথরুমের ব্যবস্থা ও সুপেয়পানি দিয়ে থাকি। অতিদ্রুত এখানে যাত্রীদের জন্য ট্রলিরও ব্যবস্থা করা হবে।’

এসব সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয় না বলে একাধিক পাসপোর্ট যাত্রী জানিয়েছেন, ‘এখানে তো আমরা বসার জন্য আসেনি। আমরা যত দ্রুত ইমিগ্রেশন পার হতে পারব, তত দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব। এখানে নেই ট্রলির ব্যবস্থা, নেই কোনো হোটেল রেস্তোরাঁ। শুধু এ ভবনের মধ্য দিয়ে ২০ হাত জায়গা পার হওয়ার জন্য এই টার্মিনালকে চার্জ দিতে হচ্ছে ৪৫ টাকা।

পাসপোর্ট যাত্রীদের দেখভালের দায়িত্ব যথাযথ পালন করছে না কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন পুলিশ। তার পাশাপাশি কাজ করছে আনসার, আর্মড পুলিশ ও পিমা নামে একটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানির সদস্যরা। ৭ জায়গায় পাসপোর্ট দেখাতে হয়। যাত্রীদের ল্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিনে দেওয়ার সময় আনসার সদস্যরা ও কাস্টমসের সিপাইরা যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করেন। প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের শেষ প্রান্তে আর্মড পুলিশ ও পিমার লোকজন পাসপোর্ট ও টার্মিনাল ফির কাগজ চেক করেন। এরপর বহির্গমনে দাঁড়িয়ে থাকা আনসার ও আর্মড পুলিশের সদস্যরা পাসপোর্টে ভ্রমণ কর দেওয়া হয়েছে কি না, তা দেখার নাম করে কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেনÑ এমন প্রশ্ন করে তারাও দাবি করেন অর্থ। নো ম্যানস ল্যান্ডের পাশেই দু-তিনজন ইমিগ্রেশন পুলিশ রয়েছে। পাসপোর্টে সিল হয়েছে কি না, কি মাল নিয়ে যাচ্ছেন, এসব যাবে না, এ কথা সে কথা বলে যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে।

আবার পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারত থেকে ফিরে আসার সময় চেকপোস্টের নো ম্যানস ল্যান্ডের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ইমিগ্রেশন পুলিশ থেকে শুরু হয় বিড়ম্বনা। সিল মেরে দেওয়ার কথা বলে পাসপোর্টপ্রতি ১০০ করে টাকা দাবি করে। এরপর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে আর্মড পুলিশ, নানা অজুহাতে চলে তাদের টাকা আদায়। কখনো বলে ‘আপনাদের মালামাল বিজিবি রেখে দেবে, তাই আমাদের কাছে পাসপোর্ট দেন, আমরা পার করে দেব।’ চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা করে ধান্ধাবাজি।

ঢাকা থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের ২০ হাত রাস্তা হেঁটে বেনাপোল স্থলবন্দরকে ৪৫ টাকা টার্মিনাল চার্জ দিতে হয়। এর কোনো কারণ খুঁজে পাই না।’

মুন্সীগঞ্জের পাসপোর্ট যাত্রী আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেখভালের কাজ করবে নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন। কিন্তু সেখানে আনসার, আর্মড পুলিশ, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রহরী ও বিজিবি কেন? একই পাসপোর্ট যাত্রীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকদের কাছে কেন জবাবদিহি করবেÑ এটা আমাদের বোধগম্য নয়।’

তার অভিযোগ, বেনাপোল থেকে ঢাকা পর্যন্ত একজন পাসপোর্ট যাত্রীকে কত জায়গায় যে ব্যাগ খুলতে হয়, এ সভ্য সমাজে কাউকে বলে বোঝানো যাবে না।

 

"