সিলেটে রাজবাড়ীর সেই ঘণ্টা!

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

তুহিন আহমদ, মহানগর (সিলেট)

সিলেট নগরে ২১৯ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক একটি ঘণ্টার অস্তিত্ব রয়েছে। এক মণ ওজনের এই ঘণ্টাটি সিলেট নগরের মণিপুরী রাজবাড়ীতে রাখা রয়েছে। যার গায়ে মনিপুরী ভাষায় লেখা, ‘শ্রীহট্ট কুনোঙ্গী শ্রী মহাপ্রভুদা শ্রীলশ্রী পঞ্চযুক্ত মনিপুরে স্বরচন্দ কীর্ত্তি সিংহ মহারাজন্য কৎখিবী সরিকনি ইতিশকাব্দা ১৮০০ সাল, ১৮ জ্যৈষ্ঠ।’

২১৯ বছর আগে মনিপুরী রাজবাড়িতে থাকা এই ঘণ্টাটি দিয়েছিলেন রাজা গম্ভীর সিং। তিনি সিলেট অঞ্চলে মোট দুটি ঘণ্টা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি মনিপুরী রাজবাড়িতে আরেকটি সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের মিশ্রপাড়া গ্রামে শ্রী চৈতন্য মন্দিরে। শ্রী চৈতন্য মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। তবে শ্রী চৈতন্য মন্দিরের ঘণ্টাটি যুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন মনিপুরী রাজবাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, প্রধান ফটক পেরিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশেই রয়েছে মন্দির। এরপর তাদের বসবাসের ঘর। এই বাড়ির বসার ঘরে রয়েছে ঐতিহাসিক এই ঘণ্টাটি। বর্তমানে ঘণ্টাকে একটি কাঠের টোলের ওপর রাখা হলেও আগে এটি মন্দিরে ছিল বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন।

এই ঘণ্টা মন্দিরে রাখার ক্ষেত্রে ওজন একটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা বলে জানিয়েছেন মনিপুরী রাজবাড়ির লোকজন। তারা বলছেন, বেশি ওজনের কারণে মন্দিরে রাখা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। আর আমরা যখন মন্দিরের সংস্কার কাজ করি তখন ঘণ্টাকে বাড়ির ভেতরে এনে রাখি।

মনিপুরী রাজবাড়ি পরিবারে সদস্য অশোক শর্মা বলেন, ‘রাজা গম্ভীর সিং সিলেট অঞ্চলে দুটি ঘণ্টা দিয়েছিলেন। একটি আমাদের রাজবাড়িতে অন্যটি শ্রী চৈতন্য মন্দিরে। এর মধ্যে শ্রী চৈতন্য মন্দিরের ঘণ্টাটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় কে কারা নিয়ে যায়। আর আমাদের বাড়ির ঘণ্টাটি প্রথমে মন্দিরে ছিল। তবে আমরা যখন মন্দির সংস্কার করি তখন মন্দির থেকে এটি বাসায় এনে রাখা হয়।’

"