নদী এখন চারণভূমি

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

সিলেট প্রতিনিধি

খরস্রোতা সুরমা নদীর বুকে পানি নেই বললেই চলে। জকিগঞ্জের অমলসিদে, সুরমার উৎপত্তি মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীতে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে। বারবার ড্রেজিংয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সুরমার উৎস মুখ সিলেটের জকিগঞ্জের অমলসিদে। চর জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা চর কেটে খাল তৈরি করেছেন।

সেদিকেই প্রবাহিত হচ্ছে সামান্য পানি। ভারত থেকে আসা বরাক নদী অমলসিদে এসে দুইভাগ হয়ে গেছে।

একদিকে চলে গেছে কুশিয়ারা আর অন্যদিকে সুরমা। বর্ষা মৌসুমে বরাকের পানি সুরমা ও কুশিয়ারার দিকে সমান তালে প্রবাহিত হলেও শীতে বরাকের মুখে চর জমে পানি শুধু কুশিয়ারার দিকে প্রবাহিত হয়। এজন্য শীতে সুরমায় থাকে না পানি। এলাকাবাসী বলছেন, উৎসমুখটি কেটে দিলে দুই নদীতে সমান তালে পানি থাকবে। সিলেট নগরীর শহরতলীর কুশিঘাট এলাকায় নদীর বুকে বিশাল মাঠ, চষে বেড়ায় গরু-ছাগল। মেয়র বলছেন, ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাতেও পানি টানতে পারে না সুরমা। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নদীতে চর পড়ে গেছে। নদী খনন না হলে সেটা পানি টানতে পারবে না।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ড্রেজিংয়ের বিষয়ে একমত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আমার কাছে প্রজেক্ট দিতে হবে। প্রজেক্ট না দিলে আমি এটাকে পুশ করতে পারব না। প্রজেক্ট দেয়া হলে আমি বিষয়টি দেখব।

সিলেট নগরের পানি সমস্যা নিরসনে সুরমার পানির ওপর নির্ভর করে ১৩২ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এই প্ল্যান্ট থেকে শীত মৌসুমে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

 

"