জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে মাঠে থাকতে চায় ২০ দল

পার্থকে ফিরিয়ে আনবে বিএনপি

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট একসঙ্গে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আবারও জোটে সক্রিয় করানোর জন্য শরিকদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন বিএনপির নেতারা। এছাড়া নিত্যপণ্যের দামসহ কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে বিএনপি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া, বগুড়ার উপনির্বাচনে যাওয়ার কথাও জানান বিএনপির নেতারা। গত সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে শরিকদের কাছে এমন মনোভাবের কথা জানিয়েছেন বিএনপি ও জোট নেতারা।

বিএনপির পাঁচ এমপির শপথকে কেন্দ্র করে জোটে যে অবিশ্বাস আর দূরত্ব

তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরিকরা। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট তারা। ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শরিক দলের নেতারা। গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো সিদ্ধান্তে শরিকদের মতামত নেওয়া হবে বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে নিশচয়তা দেওয়া হয়েছে। মাসে অন্তত এক দিন জোটের বৈঠক করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে শরিক দলের নেতারা বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চানÑ জোটের সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচন প্রত্যাখ্যান এবং শপথ না নেওয়ার। অথচ এই সিদ্ধান্তের পরেও কেন জোটের সঙ্গে আলোচনা না করে শপথের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। আবার অন্য এমপিরা শপথ নিলেও মহাসচিব কেন নিলেন না। এসব প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা কৌশলগত কারণে শপথ নিয়েছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি যাইনি। আমি বাইরে থেকে কাজ করতে চাই। আমরা পার্লামেন্টে কথা বলব, আবার বাইরেও বলব। পার্লামেন্টে গিয়েই বিএনপির এমপি হারুন-অর রশিদ নির্বাচনকে অবৈধ, সরকারকে অবৈধ বলেছেন বলেও উদাহরণ দেন বিএনপি মহাসচিব। পরে সার্বিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ব্যাখ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করেন শরিক দলগুলো।

জামায়াতের বিষয়ে একটি দলের শীর্ষ নেতা জানান, বৈঠকে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবদুল হালিমের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের দলের মধ্যে তো একটা টানাপড়েন চলছে। ধৈর্য ধরে এসব মোকাবিলা করুন। জবাবে হালিম বলেন, আশা করি আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।

জোটের অন্য এক নেতা জানান, বৈঠকের একপর্যায়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিষয়ে শরিকদের মতামত জানতে চান বিএনপি নেতারা। এ সময় আমরা প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছি। পরে বিএনপির এক নেতা বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে আমরা একজনকে নমিনেশন দেব। তবে কাকে দেবেন তা বলেননি। এছাড়াও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে বিএনপি নেতারা বৈঠকে বলেছেন, বগুড়ায় আমরা প্রার্থী দেব বলে চিন্তাভাবনা করছি। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের আলটিমেটাম নিয়ে কথা বলেন অনেকে। ইরানকে উদ্দেশ করে তারা বলেন, মিডিয়ার মুখরোচক কথা বলার চেয়ে, বলতে হবে বৈঠকে। জবাবে ইরান বলেন, আমার কথা ভুলভাবে মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয়েছে। আলটিমেটামের কথা অস্বীকার করেন তিনি। এছাড়া আন্দালিভ রহমান পার্থ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা বৈঠকে জানান, আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে পার্থ সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। তবুও তাকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কিন্তু তিনি আসেননি। মান-অভিমান থাকতে পারে, দীর্ঘদিন একসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তাকে জোটে ফেরানোর জন্য এখনো আমরা হাল ছাড়িনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, জোটের বৈঠকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু আমি বৈঠকে যোগ দেব না- এটাই স্বাভাবিক। কারণ ২০ দলে এখন আমি নেই। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাকে আলাদাভাবে বিএনপি ডাকলে আমি যেতে পারি।

বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সেগুলো হলোÑ ২০ দলীয় জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখ বৈঠক করবে। জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ২০ দলীয় জোট একক ও পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করবে। তিনি বলেন, ধানের ন্যায্যমূল্য, মিডনাইট নির্বাচন বাতিল এবং পুনর্নির্র্বাচনের দাবিতে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের জন্য ২০ দলের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্র করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জোট ছেড়ে না যেতে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অনুরোধ করেন। আগামীতে জোটের পরিধি আরো বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেন তিনি।

গত সোমবার বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জোটের এ বৈঠক হয়। পরে শরিক দলের নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির ড. রেদোয়ান আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব, খেলাফত মজলিসের ড. আহমেদ আবদুল কাদের, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

 

"