ধানের মূল্যের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

কৃষকের ঘরে বোরো ধান উঠেছে। কিন্তু ধানের বাজার এখন মন্দা। কৃষকরা জানিয়েছেন, এক মণ ধান উৎপাদন করতে তাদের খরচ হয় ৮০০ টাকা। বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি মণ ৫০০ টাকায়। এই ক্ষোভে জয়পুরহাটের এক কৃষক পাকা ধানখেতে আগুন দিয়েছেন। এ ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্ব¡রে। কৃষকের উৎপাদিত ধানের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার তারা রাস্তায় ধান ছিটিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের রাস্তায় ধান ছিটিয়ে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উৎপাদিত ধানের লাভজনক মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলে ধানের খেতে আগুন লাগিয়েছেন এক কৃষক; যা কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের জন্য লজ্জার। এক মণ ধান উৎপাদনে কৃষক যে পরিমাণ খরচ করেন বিক্রি করে মূলধনও ফেরত পান না তারা। কৃষকরা এ ভর্তুকি কোথায় পাবেন? পুঁজিবাদীরা ব্যাংক ঋণ মওকুফ পাচ্ছেন কিন্তু কৃষকরা তাদের ভর্তুকি পাচ্ছেন না। অথচ এই পুঁজিবাদী, শাসকগোষ্ঠী, সরকারের আমলাদের বাড়ি-গাড়ি সব হয়েছে কৃষকের ট্যাক্সের টাকায়।

তারা আরো বলেন, আজকে ধানের যে দরপতন এর জন্য এক শ্রেণির সিন্ডিকেট দায়ী। সরকার এ বছর ২৬ টাকা কেজি দরে ধানের দাম নির্ধারণ করেছে কিন্তু ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৪ টাকা কেজি দরে কিনছেন; তারাই আবার সরকারের কাছে ২৬ টাকায় বিক্রি করছেন। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সম্পদের পাহাড় তৈরি হচ্ছে আর রাস্তায় বসছেন কৃষকরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘জিডিপি নয় ধানের দাম চাই, শিল্পপতি যদি তার পণ্যের দাম ঠিক করেন তবে কৃষক কেন তার ফসলের দাম ঠিক করতে পারবেন না? ধানের দাম কমে, চালের দাম বাড়ে কেন? কৃষি মেরে কৃষক মেরে উন্নয়ন মানি না, কৃষক যদি না করে ধান চাষ দেখব শাসকগোষ্ঠী কি খায়, আমরা চাষা ধানের লাভজনক মূল্য চাই ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন আবদুল মজিদ অন্তর, সুমন মোড়ল, মাসুদ রানা, নুসরাত জাহান আভা, মহাব্বত হোসেন মিলন, মেহেদী হাসান, তানভীর খন্দকার, আবদুল্লাহ নীল, মাহমুদ সাকী প্রমুখ।

জাবি : বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশের সড়কে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৃষকরা ধান উৎপাদন করে তাদের ব্যয়ের টাকা টাকা উঠাতে পারছেন না। তার ধান বিক্রি করছেন ১০ টাকায় কিন্তু আমরা চাল কিনছি ৫০ টাকায়। বাকি টাকা যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এ সময় তারা কৃষকের উৎপাদিত ধানের লাভজনক মূল্য প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

মতিউর রহমান মুন্নার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংগঠনটির জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান, সমন্বয়ক আবু সাঈদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আদিব আরিফ, জয়নাল আবেদিন শিশির প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ঢাবি : বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গতকাল টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনে বাংলাদেশের কৃষক সমাজকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দাবি করা হলেও দেশের বাইরে থেকেও চাল আমদানি করার কারণেই দেশের কৃষকরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করে ধানের মূল্য নির্ধারণ করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের চক্র থেকে কৃষকদের রক্ষার দাবি জানান তারা।

 

"