পাকা ধানে আগুন দিয়ে আরেক কৃষকের প্রতিবাদ

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে এবার আরেক কৃষক নিজের ধানখেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। এর আগে কালীহাতির এক কৃষক একইভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ধানের দাম কম হওয়ায় এবং ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় ধান চাষে লোকসানের মুখে রয়েছেন কৃষক।

গত সোমবার বিকালে বাসাইল উপজেলার কাশিল গ্রামের নজরুল ইসলাম খান নামের এক কৃষক উপজেলার নলী বিলের বোরো ধান খেতে আগুন ধরিয়ে দেন। এর আগে গত রোববার (১২ মে) দুপুরে জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আবদুল মালেক তার রোপণকৃত পাকা ধানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করেন।

বাসাইলের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ধান কাটা শ্রমিকের মূল্য প্রায় ১ হাজার টাকা। তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০ টাকা মণ দরে। এছাড়া ধান খেতে ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাস্ট রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ধানের শীষ চিটা হয়ে শুকিয়ে গেছে। বারবার জানালেও স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ‘ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়া প্রায় ৫৬ শতাংশের ধান কেটেছি। এই ৫৬ শতাংশ জমিতে মাত্র চার মণ ধান হয়েছে। ৫৬ শতাংশ জমিতে আমার প্রায় ২৫ হাজার টাকার ঘাটতি হয়েছে। তাই দিশাহারা হয়ে ২০ শতাংশ পাকা ধান খেতে আগুন ধরিয়ে দেই। তবে স্থানীয়রা এসে নিভিয়ে দেয়। আমি এবার ১২ পাকি জমিতে বোরো আবাদ করেছি। একে তো ধানের দাম নাই, তারপর মজুরের দাম বেশি, এর ওপর জমির ধানে ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাস্ট রোগ। এবার আমার বোরো আবাদে অনেক টাকা ঘাটতি হবে।’

বাসাইল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রুপালী খাতুন বলেন, ‘ধানে আগুন দেওয়ার বিষয়টি শুনে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শ্রমিকের দাম বেশি ও ধানের দাম কম হওয়ায় ওই কৃষক দিশাহারা হয়ে ধান খেতে আগুন দেন।’

তিনি আরো বলেন, উপজেলায় এবার ১১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকজন কৃষকের ৯ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। পরে তাদের পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা দুইবার স্প্রে করেননি। এর ফলে কয়েকজন কৃষকের ধান নষ্ট হয়।

এর আগে গত রোববার কালিহাতীর পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আবদুল মালেক তার পাকা ধান খেতে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ করেন। কৃষক আবদুল মালেক বলেন, ধান কাটতে শ্রমিককে দিতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকা। তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধান কেটে বাড়িতে আনতে এক মণের মূল্য প্রায় ১ হাজার টাকা করে পড়ছে। ধান বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০ টাকা করে। প্রতি মণে আমাদের ঘাটতি পড়ছে ৫০০ টাকা করে।

ওই কৃষক আরো বলেন, ‘শ্রমিকের জন্য বাজারে গিয়ে কয়েকবার ফেরত এসেছি। খেতে ধান পাকলেও তা ঘরে তুলতে পারছি না। তাই দিশাহারা হয়ে এই কাজ করেছি।’

 

"