তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’

মাদক কারবারি, মানব পাচারকারীসহ নিহত ৫

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

কক্সবাজার, পাবনা, ও যশোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে ও সোমবার দিবাগত রাতে এসব ঘটনা ঘটে। বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের অন্তত ৯ জন সদস্য আহত হয়েছেন। খবর প্রতিদিনের সংবাদ জেলা প্রতিনিধিদের।

কক্সবাজার : টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মানব পাচারকারী দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে বঙ্গোপসাগর লাগোয়া শামলাপুর মেরিনড্রাইভে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত রোহিঙ্গারা হলেন শামলাপুর ২৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবদুর রহিমের ছেলে আজিম উল্লাহ (২০) ও উখিয়ার জামতলী ১৫নং রোহিঙ্গা কাম্পের মৃত রহিম আলীর ছেলে আবদুস সালাম (৫২)। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এএসআই জহিরুল ইসলাম, কনস্টেবল মোবারক হোসেন, খাইরুল ও মানিক মিয়া।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, শেষ রাতের দিকে কিছু দালাল রোহিঙ্গাদের পাচারের উদ্দেশে জড়ো করছেÑ এমন খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পাচারকারীরা পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। কিছুক্ষণ পরে আক্রমণকারীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীর ইয়াবা কারবারি সৈয়দুল মোস্তফা ভুলু (৩৫) নিহত হয়েছেন। নিহত ভুলু কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলির মাদক কারবারি হাজী জহির আহাম্মদের ছেলে। ভুলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় সাতটির অধিক মামলা রয়েছে। তার বাবা জহির আহাম্মদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় দুই ডজনের মতো মামলা রয়েছে।

পাবনা (ঈশ্বরদী) : ঈশ্বরদীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হাফিজুর রহমান তিতাস (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সাঁড়া ঝাউদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবিÑ নিহত হাফিজুর রহমান তিতাস মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। হাফিজুর রহমান তিতাস উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া বাঁশেরবাদা গ্রামের মৃত আজিজ মোল্লার ছেলে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহুরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গভীর রাতে সাঁড়া ঝাউদিয়া এলাকার একটি মাঠে মাদককারবারীরা মাদক ভাগাভাগি করছেÑ এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও পরে গুলি চালায় মাদক কারবারিরা। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাফিজুর রহমানকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যশোর : যশোরে দুই দল ডাকাতের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের নোঙ্গরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই মাহবুব জানান, দুই দল ডাকাতের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা রাস্তার ওপর গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি, তিনটি হাঁসুয়া ও এক জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

"