রংপুরে রকমারি ইফতার

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০

আবদুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

রংপুরে জমে উঠেছে ইফতারের বাজার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত বছরের চেয়ে এবার ইফতারসামগ্রীর দাম বাড়লেও ক্রেতার নেই কোনো ঘাটতি। পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই জমে উঠেছে ইফতারির দোকানগুলো। দিন দিন বেড়েই চলছে ক্রেতাদের ভিড় ও বিক্রেতার ব্যস্ততা।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে রংপুর মহানগরীর বাণিজ্যিক এলাকা ব্যাংকপাড়া (জাহাজ কোম্পানি মোড়), কাছারি বাজার, পায়রা চত্বর, শাপলা চত্বর, মেডিকেল মোড়, সিও বাজারসহ নগরীতে ইফতারসামগ্রী বিক্রির দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, দুপুর গড়তে না গড়তেই দোকানগুলোতে ইফতারির পসরা সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে শাহি জিলাপি, বুট বুন্দিয়া, বেগুনি, পেঁয়াজু, ডিমচপ, সবজি রোল, ছানার পোলাও, হালিম, হালুয়া, বুট বিরানি ও ঝুরিয়া মুড়ি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশি চাহিদা রয়েছে জিলাপি, বুন্দিয়া, বেগুনি, পেঁয়াজু আর হালিমের।

রোজাদারদের কাছে ইফতারসামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত বিভিন্ন ধরনের খেজুর সর্বনিম্ন ৯০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে জিলাপি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, বুন্দিয়া ১২০ থেকে ১৬০, সিদ্ধ ছোলা ১১৫ থেকে ১৫৫, ছানার পোলাও ১৫০ থেকে ১৬০, বেগুনি পিস ৩ ও ৬, আলুর চপ ৩ থেকে ৫, পেঁয়াজু ৩ থেকে ৫, সবজি রোল ৮ থেকে ২৫, শামি কাবাব ৩০ থেকে ৭০, নিমকপোড়া ও চিড়া ভাজা ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হালি কলা প্রকারভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর মহানগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ে ইফতারসামগ্রী কিনতে আসা মিজানুর রহমান, এন এফ রাফি, নূর আলম, মোসলেম মিয়া, হাকিম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইফতারসামগ্রীর মূল্য অনেক বেশি। বছরে একবার রোজার মতো ধর্মীয় ইবাদতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মুখরোচক রকমারি ইফতারসামগ্রীর স্বাদ নিতে সবারই ইচ্ছা হলেও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ চড়া দামে ওইসব মুখরোচক ইফতারসামগ্রীর স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়।

এবারের রমজানের ইফতারের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আফজাল হোসেন জানান, গত বছর তাদের প্রতিষ্ঠানে ২০০ টাকা দিয়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ জন ইফতার করতেন। সেই ২০০ টাকার মধ্যে আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপি ইত্যাদির পাশাপাশি কলা, আপেল, খেজুর, শশা ইত্যাদি বেনা সম্ভব হতো। কিন্তু এবার বাজেট বাড়িয়ে ২০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করার পরও ইফতার আইটেমে কলা, আপেল, শশা, খেজুরের কোনোটাই ক্রয় করতে পারেননি তিনি।

ইফতারসামগ্রীর দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে বেশ কজন ইফতার বিক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, তেল, পেঁয়াজ, আটা, বেসন, বুটসহ ইফতারসামগ্রী তৈরির কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের উপকরণের দাম বাড়ানোয় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইফতারসামগ্রীর মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মূল্যবৃদ্ধি শর্তেও দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লেগে থাকায় বিক্রেতারা বেশ খুশি মনেই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

ক্যাব রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান-উল-হক তুহিন এ বিষয়ে বলেন, ইফতারসামগ্রীর দাম বাড়ায় তাদের পছন্দনীয় ইফতার কিনতে পারছে না। তিনি আরো বলেন, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ইফতারসামগ্রীর দোকানগুলো বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী নিয়ে যে যার মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ ভোক্তাতারা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছেন।

 

"