ভাইকে না পেয়ে বোনকে হত্যা

আরো দুজন গ্রেফতার

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ভাইকে না পেয়ে ঘরে ঢুকে এক নারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরো দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোর রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান। গ্রেফতার মো. মুছা (৪০) ও আহমদ কবির (৪২) দুজনেই ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গত শনিবার রাতে বাকলিয়ার বলিরহাট বজ্রঘোনা এলাকায় মদিনা মসজিদের পাশে এক বাড়িতে ঢুকে বুবলি আক্তার নামে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

পরে পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বুবলিদের বাড়িতে হামলা করেছিল স্থানীয় কয়েকজন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বুবলির ভাই রুবেলকে হত্যা করা। শ্বশুড়বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসা বুবলি ওই সময় ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে খুন হন। বুবলির বাবা নোয়া মিয়া শনিবার রাতে বাকলিয়া থানায় যে হত্যা মামলা করেন, সেখানে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে নাম থাকা ছয় আসামি হলেন শাহ আলম, তার ভাই নূর আলম (২৫), নবী হোসেন (৬০), মো. জাবেদ (২৪), মো. মুছা (৪০) ও আহমদ কবির (৪২)। তাদের মধ্যে হত্যাকা-ের প্রধান আসামি শাহ আলম ওই রাতেই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। শাহ আলমের ছোট ভাই নূর আলম ও তাদের সহযোগী নবী হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ওসি বলেন, ‘মুছা ও আহমদ কবির পালিয়ে তাদের দুই স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সুবিধাজনক সময়ে এলাকা ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনায় ছিলেন তারা। কিন্তু নূর আলমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পুলিশ হত্যাকা-ে ব্যবহৃত পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করতে পারলেও আসামি জাবেদ এখনো পলাতক বলে জানান ওসি।

মামলার এজাহারে নোয়া মিয়া বলেছেন, তার ছেলে রুবেল পেশায় কাঠমিস্ত্রি। গত শনিবার রাতে শাহ আলম দলবল নিয়ে রুবেলকে খুঁজতে তাদের বাসায় যায়। বুবলি তাদের বাধা দিলে তার ‘মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে’ গুলি করে শাহআলম।

শাহ আলমকে ওই এলাকার একজন ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী’ হিসেবে বর্ণনা করে মামলার এজাহারে বলা হয়, রুবেলের কাছে টাকা দাবি করে তা না পেয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায় সে।

 

"