ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে রেকর্ড বরাদ্দের প্রস্তাব

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। কারণ প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এটি দেশের ইতিহাসে ধর্মীয় খাতে এককভাবে সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল প্রকল্প।

সূত্র জানায়, এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এজন্য এ প্রকল্পে (১ম সংশোধিত) ৬ হাজার ৩৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই অর্থসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে মোট ৬ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দরকার।

জানা যায়, সৌদি অর্থায়নে ৫৬০টি ‘মডেল মসজিদ’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটি এগিয়ে না আসে তাহলে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তবে এ প্রকল্পে অর্থায়নে এখনো অস্বীকৃতি জানায়নি সৌদি আরব। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয় ৩৬৯ কোটি টাকা।

জানা যায়, সম্প্রতি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, মসজিদগুলো নির্মাণে ৫২১টি স্থান চূড়ান্ত করে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ৪১৯টি কেন্দ্রের ডিজিটাল সার্ভে করা ছাড়াও সেখানকার মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এপিপি সম্পন্ন হয়েছে ৩৬৬টি। নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ১০টি স্থানে। একই সঙ্গে নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ২১১টির এবং এনওএ ইস্যু করা হয়েছে ১০৭টির। অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো ডিও লেটারে জেলা সদরে ৬৪টি, সিটি করপোরেশনে ৫টি ও উপকূলীয় এলাকায় ১৬টিসহ ৮৫টি চারতলা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। ৪৭৫টি উপজেলায় নির্মাণ করা হবে তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন ৬ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থ বিভাগ আগামী বাজেটে উন্নয়ন খাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য সিলিং নির্ধারণ করেছে মাত্র ৯৮৩ কোটি টাকা। অথচ এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে নতুন ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়ে গেছে। মডেল মসজিদ নিয়ে অনুমোদিত সব প্রকল্প বাস্তবায়ন দরকার ৬ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

ওই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ব্যয়ের অন্যান্য খাতের মধ্যে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যয় ৩৮০ কোটি টাকা, ইসলামিক পুস্তক প্রকাশনা কার্যক্রমে ব্যয় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা, গোপালগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কমপেক্স স্থাপনে ব্যয় ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী প্রকল্পে ব্যয় ১০ কোটি টাকা, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় ৬২ কোটি টাকা, প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্পে ব্যয় ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে ব্যয় ২৪ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে আরো প্রায় ৪৩ কোটি টাকা টাকা ব্যয় হবে।

 

"