জুলহাস ও মাহবুব হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে চাঞ্চল্যকর জুলহাস মান্নান ও মাহবুব রাব্বী হত্যাকা-ের ঘটনায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগপত্রটি অনুমোদনের জন্য গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভিাগের ডিসি মো. মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর ৩৫ নম্বর উত্তর ধানমন্ডিতে ঢাকার ইউএসএইডে কর্মরত জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তন্ময়কে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনা কলাবাগান থানায় একটি মামলা হয়। প্রাথমিকভাবে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। পরে ডিএমপির সিটিটিসি তদন্তভার গ্রহণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে। তবে পলাতক রয়েছে আরো চারজন।

গ্রেফতাররা হলো আনসার আল ইসলামের মিডিয়া শাখার প্রধান ও ইন্টেলিজেন্স সদস্য মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (২৫), সামরিক শাখার সদস্য ও সমন্বয়ক মো. আরাফাত রহমান (২৪), ইন্টেলিজেন্স শাখার প্রধান শেখ আবদুল্লাহ (২৭) এবং সামরিক শাখার সদস্য আসাদুল্লাহ (২৫)। অন্যদিকে পলাতক রয়েছে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া (৪২), আকরাম হোসেন (৩০), সাব্বিরুল হক চৌধুরী (২৬) ও মো. জুনাইদ আহমদ ওরফে মাওলানা জুনেদ আহম্মদ ওরফে জুনায়েদ (২৬)।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, মামলার তদন্তের সময় ১৩ জনে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। হত্যাকা-ে জড়িত পাঁচজন আসামির শুধু সাংগঠনিক নাম পাওয়া গেছে ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সংগ্রহ করা যায়নি। এসব কারণে আটজনকে অভিযুক্তকে করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে পলাতক আসামিদের বিষয়েও চেষ্টা করছে সিটিটিসি। তাদের গ্রেফতার করা গেলে পরে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।

গ্রেফতার চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলা তদন্ত শেষে আসামিদের জবানবন্দি ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য। সংগঠনের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়ার (চাকরিচ্যুত) নির্দেশে সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্যরা এ হত্যাকা-টি ঘটায়।

 

"