প্রসূতি মায়েদের জন্য আতঙ্ক দিনাজপুর মিশন হাসপাতাল

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর সেন্ট ভিনসেন্ট (মিশন) হাসপাতাল, কসবা এখন প্রসূতি মায়েদের জন্য এক আতঙ্কেও নাম। চিকিৎসায় অবহেলা, মুমূর্ষু রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়, দালালদের দিয়ে উন্নত ও মান সম্পন্ন চিকিৎসাসেবার প্রলোভন দেখিয়ে ভর্তি করানো, নানা ছলছুতায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা।

এছাড়া ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নিয়ে প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা নিতে হয় সাধারণ বেডে। দিনের পর দিন আটকিয়ে রেখে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। এখানে প্রতি মাসে সাতজন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত ৭ মে রাত ৩টায় শহরের রামনগর এলাকার ফেরদৌস আরা লাবণ্য (২৩) নামে এক প্রসূতি মায়ের প্রসব বেদনা উঠলে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে মাত্রারিক্ত স্যালাইন প্রয়োগ করে, এতে স্বাভাবিক প্রসবে ব্যাঘাত ঘটে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের ফুঁসলিয়ে কেবিনে আনে ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে। সেখানে অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ওই প্রসূতি মা। এরপর ১০ মে রাত ১০টার পর অসম্পূর্ণ গর্ভপাতের ফলে হঠাৎ চরম খিচুনি শুরু হয়। খিচুনি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, হাসপাতালে মেঝেতে তিনি নিজের শরীর খামচাচে-খামচাতে নিজের মাথার চুল নিজেই ছিঁড়তে-ছিঁড়তে বেড ছেড়ে ফ্লোরে গড়াগড়ি করতে থাকেন। এমন অবস্থাতেও রোগীকে বাঁচাতে খোঁজাখুঁজি করেও ডাক্তার ও নার্সের দেখা পাননি স্বজনরা। ততক্ষণে ৮৭ ঘণ্টা বয়সি কন্যাসন্তান রেখে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই প্রসূতি মা লাবণ্য। দীর্ঘ সময় পর নার্সরা এসে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করতে থাকে লাবণ্যের মায়ের সঙ্গে।

এদিকে, চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কান্নার রোল পড়ে যায়। রামনগর, মিশন রোডে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে থাকলে মিশন হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সরা তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কোতোয়ালি পুলিশ এসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ন্যায়-বিচারের আশ^াস দিয়ে শান্ত করে।

ডেলিভারির ৩ দিন পর কি করে রোগীর মৃত্যু হলো জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো উত্তর দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ডাক্তারদের অবহেলায় লাবণ্যের অকাল মৃত্যুর জন্য কসবা মিশন হাসপাতালের ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।

 

"