ভারতীয় করিডর বন্ধ, তাই গরুর মাংসের দাম চড়া!

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত থেকে গরু আসার করিডরগুলো খুলে দিলে এক দিনের মধ্যেই মাংসের দাম কমে যাবে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মেয়রকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। গাবতলীতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হয় না। ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ থাকায় মূলত দেশে মাংসের দাম বাড়ছে। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনে গাবতলী পশুরহাট কর্তৃপক্ষ, পশু ব্যবসায়ী ও মাংস ব্যবসায়ীরা এ কথা বলেন।

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন গাবতলীতে চাঁদাবাজির কারণে মাংসের দাম বাড়ছে বলে যে মন্তব্য করেছেন, তারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

তারা আরো বলেন, গাবতলীতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হয় না। আর হাসিল বা ফি নেওয়া হয় সরকার নির্ধারিত হারেই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকায় চাঁদাবাজির কারণে যদি মাংসের দাম বাড়ার অভিযোগ করা হয়, তাহলে আমাদের প্রশ্নÑ ঢাকার বাইরে মাংসের দাম ঢাকার চাইতেও বেশি কেন? ঢাকায় মাংসের দাম বাড়ার নেপথ্যে একটি মাফিয়া চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ মাফিয়া চক্রটি কারাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীরা জানান, বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন গাবতলী গবাদি পশু ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মজিবর রহমান, কাপ্তান বাজার মাংস ব্যবসায়ী নেতা মো. রুবেল, গাবতলী পশুর হাট পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন, আবুল হাসেম প্রমুখ।

মাংস বিক্রেতাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে সরেজমিনে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে সানোয়ার বলেন, তাহলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। কারা গাবতলীর গরুর হাট নিয়ে ষড়যন্ত করছে, তাও জানা যাবে।

গাবতলী পশুর হাটে বিক্রির সময় সিটি করপোরেশন নির্ধারিত হাসিল ছাগলের জন্য ৩৫ টাকা, গরুর জন্য ১০০ টাকা ও মহিষের জন্য ১৫০ টাকা নেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সানোয়ার বলেন, এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট, গাবতলীতে চাঁদাবাজির কারণে যদি মাংসের দাম বৃদ্ধি পায়, তাহলে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় মাংসের দাম ঢাকার চেয়েও বেশি কেন?

তিনি আরো প্রশ্ন করেন, মাংস ব্যবসায়ীরা গাবতলী হাটের বাইরে আরো হাট থেকে পশু কেনেন, তাহলে সেই পশুর মাংসের দাম কম নয় কেন? গাবতলী হাটে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ পশু বিক্রি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এই হাট প্রায় ১৬ কোটি টাকা দিয়ে ইজারা নেওয়া হয়। কিন্তু সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ফি ছাড়া বাড়তি টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া সরকারি নীতি অমান্য করে গাবতলী বেড়িবাঁধে ২৫-৩০টি গরুর ফার্ম থেকেও সরাসরি কিনছেন মাংস বিক্রেতারা। এই ক্ষতিটাও আমাদের ওপর পড়ছে। তবু গাবতলী পশুর হাট কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো বাড়তি টাকা নেয় না।

 

"