হজযাত্রীদের বিড়ম্বনার কারণ মধ্যস্বত্বভোগী

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হজযাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী। হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানায় হাব।

এতে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, হজযাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়ার প্রধান কারণ মধ্যস্বত্বভোগী। হজযাত্রীরা দয়া করে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের কাছে টাকা দেবেন না। শুধু সরকার অনুমোদিত হজ এজেন্সিগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন। হজ এজেন্সিগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর কেউ কোনো বিড়ম্বনায় পড়লে, সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে হাব সভাপতি বলেন, ফ্লাইটের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর সৌদি আরবে বাড়িভাড়া করার জন্য সরকার এবং হজ এজেন্সিগুলো উদ্বুদ্ধ করে আসছে। কিন্তু এয়ারলাইনসগুলোর কারণে এখনো টিকিট নিশ্চত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায়ই আমরা বাড়িভাড়া করার কাজ শুরু করে দিয়েছি। এয়ারলাইনসগুলোর কারণে ফ্লাইটের টিকিট নিশ্চিত করে তারপর বাড়িভাড়া করাটা সম্ভব হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ওমরাহ যাত্রী ও মধ্যপ্রাচ্যগামী অভিবাসীদের ফ্লাইটে তীব্র আসন সংকট ও দ্বিগুণ ভাড়া বৃদ্ধির কথা তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে হাবের সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক ওমরাহ যাত্রী সৌদি আরবে যান। এখন সারা বছরই ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এয়ারলাইনসগুলোতে ওমরাহ যাত্রীর আসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই সুযোগে এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইটের ভাড়া অসহনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে। যেখানে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা ওমরাহ যাত্রীদের প্লেনভাড়া ছিল ৫০ হাজার টাকা, এখন সেটা বেড়ে ৮০-৮৫ হাজার টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০-৯৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। এত বেশি ভাড়া দিয়েও ফ্লাইট পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ বছর কমপক্ষে ২০ হাজার ওমরাহ যাত্রী ভিসা সংগ্রহ ও হোটেল বুকিং করার পরও রমজানে ওমরাহ পলন করতে পারবেন না। যদিও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই ২০ হাজার ওমরাহ যাত্রীর ভিসা ও হোটেল বাবদ এরই মধ্যে খরচ হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া প্লেনভাড়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসনব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার গরিব অভিবাসীরা বর্ধিত ব্যয় বহন করতে না পাড়ায় ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও হাব সভাপতি জানান।

"