আমের ফলন ভালো, পরিচর্যা খরচ কম

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

এ বছর আমের ফলন ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। গত বছরের মতো ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে আমের ক্ষতি হয়নি। অপরিপক্ক আম পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহারের সরকারের বিধি-নিষেধে খরচ কমে গেছে। তা ছাড়া প্রশাসনের নজরদারি ও আম পাড়তে সময়সীমা বেঁধে না দেওয়াতেও খুশি আমচাষিরা। কীটনাশকের ব্যবহার কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমন গরম অব্যাহত থাকলে চলতি মাসের শেষের দিকে ওঠবে কিছু কিছু গুটি জাতের আম, জুন মাসজুড়ে থাকবে আমের ভরা মৌসুম। তবে দাম আশানুরূপ নয় বলে দাবি বাগান মালিকদের।

শিবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী ফজলুল হক জানান, এ বছর বাগানের ক্রেতা নেই। তাই আমচাষিরা বাড়তি পরিচর্যা করছেন না। এছাড়াও সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি আদেশকে কেন্দ্র করে আমচাষিরা রায়টি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না পাওয়ায় বাগান পরিচর্যায় অনেকটা উদাসীন। এ বছর আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনেকটা অনুকূলে থাকায় এবং পরিচর্যা খরচ অন্য বছরের তুলনায় অর্ধেক হওয়ায় লাভের আশা করছেন তারা।

এদিকে বাগানগুলোয় গিয়ে দেখা গেছে, এ বছর কীটনাশকের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাগানে পাহারা বসানোর জন্য ঘর মেরামতের কাজ চলছে। যেসব গাছের ডালপালায় অধিক আম এসেছে সেগুলোতে ঠেকা দেওয়ার কাজ চলছে।

শিবগঞ্জের অপর আম ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন শামিম খান জানান, এ রকম তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে গুটি জাতের কিছু কিছু আম ২৫ মে’র দিকে ওঠে যেতে পারে। নাহলে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসবে। তিনি আরো জানান, গুটি জাতের আম গোপালভোগ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের পর খিরসাপাত জাতের আম বাজারে আসবে। তবে আমের দাম নিয়ে হতাশ তিনি। এদিকে আমের বাজার ও বাগানগুলো মনিটরিং শুরু করেছে প্রশাসন। এবার যেন অপরিপক্ক আম পেড়ে রাসায়নিক দিয়ে না পাকাতে পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আমচাষি আ. করিম জানান, গত দুই বছর আম পাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বছর যেহেতু প্রশাসনের নজরদারি আছে সেহেতু এ সময়সীমা বেঁধে না দেওয়ায় ভালো হয়েছে।

শিবগঞ্জের সীমান্তবর্তী শাহবাজপুর এলাকার কৃষক মজিবুর রহমান জানান, তাপমাত্রা ও আবহাওয়াজনিত কারণে আম অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পেকে যায়। কিন্তু প্রশাসন গত দুই বছর সময় বেঁধে দেওয়ায় আম ব্যাপক হারে পেকে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন জানান, আম শিল্পকে বাঁচাতে উচ্চ আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়নে কোনো পক্ষই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে পর্যবেক্ষণ টিম। এছাড়া কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আম ও বাগানের পরিচর্যা করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ জেড এম নুরুল হক জানান, এ বছর যেহেতু আদালতের নির্দেশক্রমে ক্ষতিকর রাসায়নিক বাগানে দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নজরদারি রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেহেতু এ বছর আম পাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না। আমচাষিদের পক্ষ থেকেও প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে এবং এ নিয়ে আম গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক, কৃষি বিভাগসহ আম সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আম পাড়ার বিষয়ে একটি সভাও করা হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩১ হাজার ৮২০ হেক্টর আম বাগানে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার মধ্যে সর্বোচ্চ শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে।

"