‘চামচঠোঁটি-বাটান’ পাখি মহাবিপন্ন

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চামচের মতো ঠোঁট বলে পাখিটির নাম চামচঠোঁটি। বাংলাদেশের বৃহত্তর অঞ্চলে পরিযায়ী এ পাখিটির উচ্চতা ১৬ সেন্টিমিটার। আকারে চড়–ইয়ের চেয়ে সামান্য বড়। কালো রঙের চামচের মতো ঠোঁটের এই পাখিটি পৃথিবীজুড়ে আজ মহাবিপন্ন। বাসস্থান, খাদ্য এবং প্রজনন সংকটের কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে তাদের অস্তিত্ব। পাখিটির নাম ‘চামচঠোঁটি-বাটান’। ইংরেজি নাম Spoone-billed Sandpiperএবং বৈজ্ঞানিক নাম Calidris pygmaea।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এ পাখিটিকে পৃথিবীব্যাপী ‘মহাবিপন্ন’ বলে তালিকাভুক্ত করেছে।

প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, চামচঠোঁটি-বাটান পাখিগুলো আমাদের দেশে শীতকালে পরিযায়ী। তবে এরা পৃথিবীব্যাপী মহাবিপন্ন তালিকাভুক্ত। শীত শেষে এ পাখিগুলো চলে যায় উত্তরপূর্ব রাশিয়ার ‘কামচাটকা’ নামক স্থানে। সবাই এ স্থানকে সাইবেরিয়া হিসেবেই চিনে; কিন্তু আসলে সাইবেরিয়ার সেই জায়গাটি হলো তুন্দ্রা। অর্থাৎ যেখানে বরফ চলে যাওয়ার পরও কোনো গাছপালা হয় না। তবে ছোটছোট ঝোপঝাড় বা গুল্ম জন্মে থাকে।

চামচঠোঁটি-বাটানের কৃত্রিম প্রজনন সম্পর্কে ইনাম আল হক বলেন, গ্রীষ্মে এরা ডিম পাড়ে। আমরা তো তাদের প্রজাতিগুলোকে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে তাদের ডিমগুলো কয়েকবার চুরি করে এনেছিলাম। আন্তর্জাতিকভাবে একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ডিম সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের প্রজাতিগুলো সংরক্ষণে। তারা চারটা ডিম পাড়ে; চারটার মধ্যে থেকে দুটি সরিয়ে নিলে আরো দুটি পাড়ে। দুটি করে করে সবার কাছ থেকে ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপর ইনকিউবেটরে সেই ডিমগুলো রেখে ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে কিছু সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রায় ৪০টার মতো ‘চামচঠোঁটি-বাটান’ এর বাচ্চাকে বড় করে তারপর প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, সাইবেরিয়ার ওই জায়গায় সহজে যাওয়া যায় না। অনেক দুর্গম এলাকা। এখানে কোনো ধরনের বসতি নেই; কোনো যানবাহনও চলাচল করে না। শুধু রাশিয়ার মিলিটারি ট্যাঙ্কগুলোতে চড়েই যেতে হয়। আর ওইখান থেকে চামচঠোঁটি-বাটানের ডিম চুরি করে আনা হয়েছিল। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ছিল এটি; গত ১০ বছর ধরে এই কাজটি করা হয়েছে। এর ফলেই কিন্তু এদের সংখ্যা বর্তমানে কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। পৃথিবীতে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ‘চামচঠোঁটো-বাটান’ পাখি টিকে আছে। ওরা কাদাপানি থেকে একেবারে ছোট ছোট কাকড়া খুঁজে নিয়ে খায়। এই কাঁকড়াগুলো অনেকটা পিঁপড়ার মতো। এই একটি খাবার ছাড়া বাকি খাবারের কথা আমাদের জানাও নেই। এই পাখিটির ওপর পৃথিবীব্যাপী গবেষণা চলছে বলে জানান পাখি গবেষক ইনাম আল হক।

বাংলাদেশে জরিপ সম্পর্কে ইনাম আল হক বলেন, এখন আমরা প্রতি বছর মিয়ানমারে গিয়ে এই পাখিটির ওপর জরিপ করে থাকি। এছাড়াও আমরা প্রতি মাসে বাংলাদেশের সোনাদিয়া উপকূলে এই পাখিটির ওপর পাখিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। আমরা এই জরিপের তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে রাখি পাখির গবেষণা কাজের লক্ষ্যে। যে পাখিটি পৃথিবী থেকে হঠাৎ করে কমে যায়, তার ওপরই আমাদের গবেষণাগুলো চলতে থাকে পৃথিবীব্যাপী। কয়েক বছর আগে আমরা আমাদের দেশে শীত মৌসুমে এই পরিযায়ী চামচঠোঁটি-বাটানের সর্Ÿোচ্চ সংখ্যা পেয়েছিলাম ৪৫টি। এখন এগুলোর সন্ধান-সংখ্যা ২২ থেকে ২০টিতে নেমে এসেছে।

"