যাত্রী সেজে অটোরিকশা ডাকাতি : অবশেষে ধরা

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (সিলেট) প্রতিনিধি

গভীর রাতে দূরে কোথাও যাওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে নির্জন স্থানে যাওয়ার পরপরই চালককে হাত-পা বেঁধে, মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যেত একটি চক্র। দীর্ঘদিন এভাবে যাত্রী বেশে গাড়ি ডাকাতি করতে গিয়ে পাঁচজন। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার তাদের আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ওই দলের হাত থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন এক সিএনজি অটোরিকশা চালক। ওই ৫ ডাকাত দলের সদস্য পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছে। তারা চালককে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ভাড়া নিয়েছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ সুরমা থানার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেতলী দারগা বাড়ির সামনের রাস্তায় নির্জন এলাকা থেকে ডাকাতদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো এয়ারপোর্ট থানার ধোপাগুল উমদারপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. জাকারিয়া (২১), তাহিরপুর উপজেলার রতনশ্রী গ্রামের সুহেল আহমদের ছেলে তুষার আহমদ (২০), একই উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে ছুফায়েল আহমদ (১৯), চাঁদপুর সদর উপজেলার ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের মঈনউদ্দিন খাঁনের ছেলে সাগর আহমদ (১৮) ও লাখাই উপজেলার বামুই গ্রামের মো. লায়েছ মিয়ার ছেলে খোকন আহমদ আবদুল্লাহ (১৮)।

পুলিশ জানিয়েছে, সিলেটে এর আগে এভাবে আরেকটি ঘটনায় একজন চালককে হত্যা করে তার গাড়িটি ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনাটি ঘটেছিল সিলেটের বিশ^নাথ উপজেলায়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. জেদান আল মুসা বলেন, ডাকাতদের কবলে পড়া চালক মো. ইরা মিয়াসহ (৩০) সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে টহল দিচ্ছিল দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। এ সময় নির্জন স্থানে একটি সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশনে গেলে ওই পাঁচ ডাকাতকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ।

তখন সিএনজি অটোরিখশা চালক ইরা মিয়াকে হাত বাঁধা ও মুখে কাপড় গুঁজা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশের এই মুখপাত্র।

পুলিশ জানায়, এদের আটকের সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু, রুমাল ও গামছা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ভিকটিমের ছিনিয়ে নেওয়া সিএনজি অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, এই চক্র প্রায়ই সিএনজি অটোরিকশা চালকদের টার্গেট করে ডাকাতি করে। পাঁচ ডাকাত আটক হওয়ায় এ চক্রের সন্ধান বের করা আরো সহজ হবে। ভিকটিম গাড়িচালক মো. ইরা মিয়া জানান, গাড়িটি প্রথমে ভাড়া নেয়। এরপর হাত বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে ধারালো চাকু দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. জেদান আল মুসা বলেন, উদ্ধার হওয়া মো. ইরা মিয়া বাদী হয়ে মামালার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আটককৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হবে।

"